প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:০৫ পিএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:৪১ পিএম
স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটি ও সেন্টার ফর এনআরবি ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রবাসী দিবসে প্রবাসীদের সন্তান ও অতিথিরা। প্রবা ফটো
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রণোদনা দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘যারা নিম্ন আয়ের প্রবাসী, রেমিট্যান্স পাঠানোর সময় তাদের জন্য ১০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। আবার যারা বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবে তাদের বেশি সুবিধা দেওয়া উচিত। এমনকি তাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।’
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রবাসী দিবসের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটি এবং সেন্টার ফর এনআরবি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এমই চৌধুরী শামীম প্রমুখ।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিদেশে কাজ করেন তারা দেশের মেরুদণ্ডের মতো। তারা একই সঙ্গে দুটি কাজ করেন। তার মধ্যে রয়েছে তাদের কষ্টের টাকায় দেশ উপকৃত হয় এবং নিজের পরিবার উপকৃত হয়। তাই আমাদের উচিত প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া।’
দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো শতকরা ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়।
ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘কম সুবিধাভোগী প্রবাসীরা অনেকে নিবন্ধনের বাইরে থাকেন। তাদের তালিকায় নিয়ে আসা উচিত। ফিলিপাইন আমাদের চেয়ে কম প্রবাসী পাঠিয়ে অনেক রেমিট্যান্স পাচ্ছে। কারণ তারা যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মী পাঠায়। আমাদেরও উচিত যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে কর্মী পাঠানো।’
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘প্রবাসী দিবস চালুর পেছনে স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটি ও সেন্টার ফর এনআরবি ফাউন্ডেশনের অবদান অনস্বীকার্য। প্রবাসীকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আমরা এখন বিশ্বের ষষ্ঠ। বিশ্বের প্রায় ১৪৭টি দেশে আমাদের প্রবাসীরা রয়েছে। প্রবাসীদের জন্য অনেক সুবিধা চালু করা হয়েছে। শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ইনস্যুরেন্স চালু করা হবে।’
এ ছাড়া প্রবাসে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে এমন ছয়জন প্রবাসীর সন্তানদের হাতে শিক্ষা সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটি ও সেন্টার ফর এনআরবি ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ২০১৭ সাল থেকে ৩০ ডিসেম্বর দেশে ও বিদেশে প্রবাসী দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।