প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২২ ১৭:১৪ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২২ ১৮:২৩ পিএম
ডিবি সদস্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের সদস্যরা।
ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হায়দার আলী, রেজাউল করিম, নাসির উদ্দিন ও আব্দুল কাদের। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২০ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) মোহাম্মদপুর ও কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি প্রধান বলেন, চলতি মাসের ৯ অক্টোবর এক ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবকে প্রতারক চক্রের একজন ফোন করে নিজেকে বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডস রিসাইক্লিং পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবকে তাদের প্রজেক্টে কনসালটেন্ট পদে চাকরির প্রস্তাব দেন।
পরে ১০ অক্টোবর প্রতারকদের দেওয়া ঠিকানা মোতাবেক মিরপুর মডেল থানাধীন মধ্য পীরেরবাগে অবস্থিত একটি অফিসে যান এই ভুক্তভোগী।
সেখানে ভিকটিমের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত হায়দার আলীর পরিচয় হওয়ার পরে কনসালটেন্ট পদে নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১৭ অক্টোবর তিনি বায়োডাটা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ওই অফিসে উপস্থিত হলে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা হয়। এ সময়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা শুরু করেন।
চক্রের ১ সদস্য নিজেকে ইমপোর্টারের ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি অন্য সদস্যদের জানান, তার একজন ভারতীয় বস ১৬ কোটি টাকার চশমা, হাতঘড়ি, ক্যামেরা ক্রয় করবে। ওই চশমা, হাতঘড়ি, ক্যামেরা ইমপোর্ট করে ভারতীয় বসকে সরবরাহ করলে ৩০% লাভ হবে।
ওই মালের নমুনা সংগ্রহ করে ভারতীয় বসকে দেখাতে হবে যার জন্য ৭৫ লাখ টাকা লাগবে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে ব্যবসায় শেয়ারে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী প্রথমে রাজি না হলেও প্রতারকদের প্রলোভনের কারণে তিনি ওই ব্যবসায় বিনিয়োগে আগ্রহী হন। পরে গত ১৯ অক্টোবর তিনি প্রতারকদের কথামতো ৫ লাখ টাকা দেন। পরবর্তী সময়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা জানায় নমুনা সংগ্রহ করে ভারতীয় বসকে দেখানো হয়েছে এবং নমুনা পছন্দ করেছে।
গত ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগী প্রতারকদের অফিসে যান এবং দেখতে পান ভারতীয় বস তাদের ৩০% অগ্রীম বাবদ ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। প্রতারকরা ভুক্তভোগীকে জানাযন তারা ইমপোর্টারকে ৩০% পরিশোধ না করলে মালামাল দেবেন না। উল্লিখিত মালামাল ক্রয় করার জন্য প্রতারকরা ভিকটিমকে আরও ৫০ লাখ টাকা দিতে বলেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তাদের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একইভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে প্রতারিত করে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অফিস সাজিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন। প্রতারকরা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং বয়োবৃদ্ধ লোকদের টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছেন।
ডিবি প্রধান বলেন, এই চক্রটি এর আগেও একবার গ্রেপ্তার হয় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। তাদের রাজধানীতে তিন-চারটা অফিস আছে। প্রতিটি অফিস থেকে তারা দুটি থেকে তিনটি প্রতারণা করে অফিস ছেড়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, চক্রটি প্রতারণার টাকায় নিজেদের সম্পদশালী করে তুলেছে। এই চক্রের মধ্যে একজনের সাভারে একটি এবং ঢাকায় দুটি বাড়ি রয়েছে এবং আরেকজনের গাড়ির ব্যবসা আছে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি প্রতারণা মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে রাজধানীসহ সারা দেশে আরও দশটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশ হেফাজতে আছে। তাদের চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন, মিরপুর জোনাল টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমরান হোসেন মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবা/জিজি/এমজে