প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:১০ পিএম
রাজধানীর খিলক্ষেতে বেপরোয়া গতিতে এসে তিনজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডোর চালক নাবিল আল দ্বীন বিশালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের হেফাজতে চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে খিলক্ষেত থানার পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, চালক অস্বাভাবিক অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা করেছেন নিহত গৃহবধূর স্বামী এস এম রেজাউল হক। এদিকে দুর্ঘটনায় আহত সুমন ও রিয়াদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানিছেন চিকিৎসকরা।
গত বুধবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে ফুটপাটে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনকে চাপা দেয় গাড়িটি। এতে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। দুর্ঘটনার পর চালক গাড়ি রেখে পালিয়ে গেলে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
খিলক্ষেত থানার ওসি (তদন্ত) এনামুল খন্দকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, যে গাড়ির চাপায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে সেই গাড়ির মালিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি বিমানবন্দর এলাকায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।
ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক বিশাল স্বীকার করেছেন, তার গাড়ির গতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। তবে তার দাবি, গাড়ির গতি কমানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ব্রেক কাজ না করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাডো গাড়ির মালিকের নাম শফিকুল মোস্তফা। পরিবার নিয়ে পিংক সিটি এলাকায় থাকেন তিনি। ঘটনার সময় মালিক গাড়িতে ছিলেন না। চালক বিশাল নিজেই গাড়িটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে গাড়ি চালানোর সময় চালক নেশাগ্রস্ত ছিলেন। পুলিশ চালকের ডোপ টেষ্ট করাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে পুলিশ খোঁজ রাখছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।