প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:৫২ পিএম
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:২৯ পিএম
মেয়ের অকাল মৃত্যুতে কান্না করছেন মা। প্রবা ফটো
আজিমপুরে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু আলিফা মৃত্যুর মামলায় পুলিশ প্রতিষ্ঠানটির বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ রেজিনা ওয়ালীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন ডে-কেয়ার সেন্টারের শিক্ষিকা কামরুন নাহার, আয়া ফাতেমা বেগম ও বাবুর্চি আনিচ ফকির।
শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) ভোরে তাদের গ্রেপ্তারের পর বেলা ১১টায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে লালবাগ থানা পুলিশ।
থানার ওসি খন্দকার হেলাল উদ্দিন জানান, শিশু আলিফার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা হাকিবুল হাসান যে মামলা করেছেন, সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করেছি বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইনচার্জসহ গ্রেপ্তারকৃতরা আলিফার মৃত্যুর ঘটনায় নিজেদের অবহেলার কথা স্বীকার করেছেন। রিমান্ড হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে শুক্রবার বন্ধ থাকায় শুনানি হয়নি। আদালত খোলার দিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।
ওসি বলেন, ‘ঘটনার দিনই আমি ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে দীর্ঘসময় ছিলাম এবং সবকিছু খোঁজখবর নিয়েছি। শিশু আলিফার যেদিন মৃত্যু হয়েছে, সেদিন ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে আরও ১৪টি শিশু ছিল। তাদের মধ্যে আলিফার আড়াই বছরের বড় ভাই আলভীও ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আলিফার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ডে-কেয়ার সেন্টারে মৃত্যু হলে কেউ আর আস্থা রাখবে না।’
ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, আলিফা ঠিকমতো হাঁটতে পারত না। তাকে দেখেশুনে রাখার জন্য তার বাবা-মা তাকে সেখানে রাখেন। কিন্তু তারা আলিফার প্রতি ঠিকমতো খেয়াল রাখেনি। সবার অগোচরে আলিফা বাথরুমে চলে যায় এবং পানিভর্তি বালতির মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে। পানির মধ্যে মাথা পড়ে যাওয়ায় শিশুটি হয়তো হাত-পা নাড়াচাড়াও করেছিল। কিন্তু সে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি।’
বুধবার আজিমপুর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে সরকারি ডে-কেয়ার সেন্টারে মৃত্যু হয় হাকিবুল হাসানের ১১ মাস বয়সি মেয়ে উম্মে আলিফার। ওই দিন সকালে আলিফার বড় ভাই আড়াই বছরের আলভীর সঙ্গে আলিফাকে রেখে কর্মস্থলে যান বাবা হাকিবুল হাসান ও মা ইসমত আরা। বাবা প্রকৌশলী আর মা ইসমত আরা পেশায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র নার্স। এক বছর ধরে তারা ছেলে আলভীকে এবং তিন মাস ধরে আলিফাকে ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে সকালে রাখতেন আর বিকালে নিয়ে যেতেন। বুধবার আলিফার মৃত্যুর ঘটনায় ডে-কেয়ার সেন্টারের ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন আলিফার বাবা হাকিবুল। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ডে-কেয়ার সেন্টারের ইনচার্জ রেজিনা ওয়ালীকে বরখাস্ত করেছে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।
পুলিশ বলছে, শিশুটির ময়নাতদন্তের জন্য কিছু আলামত সংগ্রহ করে ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য মহাখালী পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এটি অবহেলাজনিত মৃত্যু নাকি শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সরকারি এই ডে-কেয়ার সেন্টারটি কয়েক বছর ধরে চালু রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী পরিবারের শিশুদের এখানে রাখার সুযোগ রয়েছে।