৩০ নাগরিক সংগঠনের দাবি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৪৭ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:১৩ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৮ : আমাদের প্রত্যাশা এবং সম্মেলন থেকে প্রাপ্তি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা। প্রবা ফটো
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সদ্যসমাপ্ত জাতিসংঘের ২৮তম জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২৮) বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের ৩০টি নাগরিক সংগঠন। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বৈশ্বিক জলবায়ু সমঝোতা সম্মেলন কপ-২৮ : আমাদের প্রত্যাশা এবং সম্মেলন থেকে প্রাপ্তি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ক্লাইমেট জাস্টিস এলায়েন্সের (সিপিআরডি) নেতৃত্বাধীন ৩০টি নাগরিক সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের জোট। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা।
সংবাদ সম্মেলনে ২৮তম জলবায়ু সম্মেলনের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসার আহ্বান জানালেও সময়সীমা বেঁধে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করাসহ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন বাস্তবায়নের কোনো রোডম্যাপও প্রণয়ন করা হয়নি। সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞায়নের বিষয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে বাধ্যবাধকতা আরোপ এবং এই লক্ষ্যে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এবং বিনামূল্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর ব্যাপক মাত্রায় বাড়ানো, গ্লোবাল স্টকটেক প্রণয়ন, কনভেনশনের নীতির সঙ্গে লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলকে এলাইন করে এই ফান্ডকে রাষ্ট্রগুলোর ঐতিহাসিক দায়ের ভিত্তিতে বাধ্যতামূলক অবদান হিসেবে গঠন করা ও অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতির তহবিলটি সহজীকরণ, সামষ্টিক অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণকরণ এবং বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের এজেন্ডাগুলো ছিল এবারের সমঝোতা সম্মেলনের কাছে অন্যতম প্রত্যাশা। তবে এ সমঝোতা সম্মেলনটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের অধিকাংশ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে বলছেন পরিবেশবাদীরা।
সংবাদ সম্মেলনের প্রধান বক্তা সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ’কপ-২৮ সমঝোতা সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞার দাবি করেছিলাম, সে সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়নকে স্বীকৃত দিতে এবং প্রয়োজন-ভিত্তিক, জরুরি ও একটি বাধ্যতামূলক পরিপূরক হিসেবে প্রণয়নের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সম্মেলন থেকে কপ/সিএমপির অধীনে একটি নতুন তহবিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা একটি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে; যার প্রথম ৪ বছরের পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বিশ্বব্যাংক। এই তহবিল থেকে অর্থায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়নি এবং এটি দেশগুলোর ঐচ্ছিক অবদান হিসেবে পূর্ণ হবে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঐতিহাসিক দায় এবং সিবিডিআর-আরসি নীতি বিবেচিত হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ’অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করাসহ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন বাস্তবায়নের কোনো রোডম্যাপ গৃহীত হয়নি এই সমঝোতা সম্মেলনে এবং জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞায়নের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এবারের সম্মেলনে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তিন গুণ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রসমূহকে আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহের জন্য কোনো অর্থায়নের কথা বলা হয়নি। অ-হ্রাসকৃত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস করতে উদ্যোগ বাড়ানোর জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এজন্য কোনো সময়সীমা নির্দেশ করা হয়নি। জীবাশ্ম জ্বালানিতে অকার্যকর ভর্তুকি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গ্যাসের ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে, কিন্তু এটি বৈশ্বিক কার্বন নির্গমণ বৃদ্ধিকে প্রলম্বিত করবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সিসিডিবির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়েট কেয়া মালাকার, ডিয়াকোনিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর খোদেজা সুলতানা লোপা, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আহাম্মেদ কামরুজ্জমান মজুমদার, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন, কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক, সুন্দরবন ও উপকূল রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল ভদ্র প্রমুখ।