প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা মানবাধিকারকর্মী আল-আমিন নয়নের বিরুদ্ধে মামলা ও জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ২০টি সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ফর মাইগ্রেন্টস (বিসিএসএম) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় বিসিএসএম।
বিসিএসএম বিবৃতিতে জানায়, আল-আমিন ২০১৭ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্রাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। একদশক আগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ওই সময়ে নয়ন শিসউক নামে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি তখন মানবপাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতেন। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে যে, তিনি ইরাক থেকে ফেরত আসা কয়েকজন ভুক্তভোগীকে আদালতে মামলা করতে প্ররোচনা দিয়েছিলেন। অথচ মানবাধিকারকর্মী হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোই একজন কর্মীর কাজ। তাই তার বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছে, সেটি হয়রানিমূলক বলেই প্রতীয়মান।
সংগঠনটি জানায়, গত ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে পুলিশ আল-আমিন নয়নকে জানায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এরপর বিকালেই তাকে নিম্নআদালতে হাজির করা হলে, মামলার মূল নথি না থাকার কারণে তিনি জামিন পাবেন না বলে জানানো হয়। মামলাটি যেহেতু ঢাকার মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে, সেখানে তাকে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতে বাৎসরিক ছুটি চলমান থাকায় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের আগে মানবপাচারের ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হবে না। ফলে নয়নকে ওই রাতেই কেরানীগঞ্জের কারাগারে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নয়নকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আসামি করা হয়েছে। কেউ মিথ্যা মামলা দায়ের করলে বা মিথ্যা মামলা দায়েরে বাধ্য করলে এই ধারায় আসামি করা যায়। নয়নের বিরুদ্ধে এই ধারার অপপ্রয়োগ করা আর মিথ্যা মামলার অভিযোগে নতুন করে মামলা করতে গেলে সাধারণত আগের মামলার বাদীকে আসামি করা হয়। সাক্ষীকেও আসামি হিসাবে আদালত গ্রহণ করে না। অথচ নয়ন এই মামলায় বাদী বা সাক্ষী কিছুই ছিলেন না। কিন্তু প্ররোচণা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে এবং মানবপাচার ট্রাইব্যুনালসহ আদালত যখন অবকাশে সেই সময় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আমরা দেখেছি ইরাকে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কাজ করায় এর আগে রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিককেও একইভাবে গ্রেপ্তার করে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে তারা এই ধরনের মামলা দায়ের ও আদালত বন্ধকালীন সময়ে জেলে পাঠানোর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শিগগির এই মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তির দাবি জানায়।