বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:২৬ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:৪৮ পিএম
‘আমার দেশ, সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ’-স্লোগানে চার দিনব্যাপী বিজয় উৎসব-২০২৩ শুরু করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে ৪টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
উদ্বোধন কর্মসূচির মধ্যে ছিল- শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন, জাতীয় সংগীত ও মুক্তিযুদ্ধের গান, বিজয়ের আবৃত্তি এবং নৃত্যের সাথে বেলুন উড্ডয়ন। দ্বিতীয় পর্বে বহ্নিশিখা দলীয় সঙ্গীত ও স্রোত আবৃত্তি সংসদ দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে। পথনাটক- ঠিকানা পরিবেশন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। নাটকটি রচনায় আজাদ আবুল কালাম ও নির্দেশনায় ছিলেন দেবাশীষ ঘোষ। পরে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সাম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মুহম্মদ সামাদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক আশরাফুল আলম, নাট্যজন সারা যাকের ও বিজয় উৎসব ২০২৩ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন, জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ্, ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সহসাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ গিয়াস।
রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমাদের আগামী সংসদ নির্বাচনকে প্রতিহত করার জন্য একটা গোষ্ঠী উঠেপড়ে লেগেছে। তারা বিশৃঙ্খলা-অরজকতা তৈরি করছে, তা আমরা সকলেই অবগত। আশা করবো- সরকার কঠোর হস্তে এদের দমন করবে। এবারের নির্বাচন ভিন্ন পরিস্থিতিতে হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। তারা ঐতিহাসিক ভুল করছে। তবে খেলা দেখাচ্ছে জাতীয় পার্টি। তারা (জাতীয় পার্টি) কিছু আসনে জয়ের নিশ্চয়তা না পেলে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কি না-তার নিশ্চয়তা নেই। এতকিছুর পরেও আমাদের নির্বাচন করতে হচ্ছে।’ দেশে সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের কোন ঠাঁই নেই, যারা সন্ত্রাস করছে, সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছে তাদেরকে প্রতিহত করতে সম্মলিত সাংস্কৃতিক জোট সংগ্রাম করে যাবে বলেও উল্লেখ করেন রামেন্দু মজুমদার।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘নির্বাচন বানচাল ও দেশে অশান্তি-বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে রেলে ও বিভিন্ন যানবাহনে আগুন দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আজকে খুলনার আদালতেও আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব কিছু প্রমাণ করে দেশে সন্ত্রাস বহাল তবিয়তে রয়েছে। সাম্প্রদায়িকতা রয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছি, এ সংগ্রাম চালাতে হবে। এটি আমাদের প্রত্যয় এবং প্রতিজ্ঞা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়া যখন রাজনৈতিক মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানুষের জীবন মূল্যহীন হয়ে পড়ে। মানুষ হত্যা, সম্পদ বিনষ্ট করা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছে, সেই ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশে সন্ত্রাসের কায়েম করতে চায়। তারা সমাজকে বিভাজ্য করতে চায়, এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্য গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সকল সংকটের সমাধান সম্ভব। বাসে, রেলে আগুন দিয়ে জনগণের মতামতের প্রতিফলন করা যায় না। এসবের নাম গণতন্ত্র নয়। বিএনপি ও তার দোসররা এভাবে চালাতে থাকলে একসময় মানুষ ঘুরে দাঁড়াবে। জনগণ বেশিদিন এসব গ্রহণ করবে না। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বাঙালি কখনো বরদাস্ত করেনি। আমাদের সবসময় বিদেশি চোখ রাঙানির ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
১৩ থেকে ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রায়ের বাজারসহ ৬টি মঞ্চে এবারের বিজয় উৎসব হচ্ছে বলে জানায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। বৃহস্পতিবার একযোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ মঞ্চের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকাল ৪টায়।