প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:৪১ পিএম
সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা যাতে আইনের আশ্রয় লাভ করতে পারে সেজন্য যৌন হয়রানি প্রতিরাধ ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিশুদের জন্য আলাদা অধিদপ্তর গঠনের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নারী ও কন্যাশিশুদর প্রতি নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন যৌন হয়রানী প্রতিরাধ ও সুরক্ষা আইন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মলনে ফোরামের নেতারা এই আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২৩ উপলক্ষে এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ টনি মাইকেল গোমেজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি। তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের উত্তরণের হাত ধরে বিগত তিন দশকে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিভিন আইন হয়েছে। তারপরও স্বাধীনতার ৫২ বছরে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নে কাক্ষিত অর্জন আসেনি। আমাদের নারী এবং কন্যাশিশুদের এখনও বঞ্চনা-বৈষম্য এবং নিপীড়নের থেকে মুক্তি মেলেনি। বরং তাদের প্রতি সহিংসতা ক্রমাগত বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ৭০টি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং ২৮টি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া থেকে সংগৃহীত তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ৬৯৫ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে নারী ৫০২ জন এবং ১৯৩টি কন্যাশিশু। আত্মহত্যা করেছেন ৫৯০ জন। যার মধ্যে ৩৪৭ জন নারী এবং ২৪৩ জন কন্যাশিশু। গৃহাভ্যন্তরে সহিংসতার শিকার হয়েছে ১৭৯ জন নারী এবং ২০টি কন্যাশিশু। পাচার এবং অপহরণের শিকার ৩২ জন নারী এবং ১৩৬ জন কন্যাশিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ২২ জন। এদের মধ্যে ৩৬২ জন নারী এবং ৬৬০টি কন্যাশিশু এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে আরও ৫৩ জন নারী এবং ১৩৬টি কন্যাশিশুকে। ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ১৩ জন নারী এবং ৩৪টি কন্যাশিশু। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৩৫২ জন। যার মধ্যে ৯৬ জন নারী এবং ২৫৬টি কন্যাশিশু।
নাছিমা আক্তার জলি জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সারা দেশের থানায় বিগত পাঁচ বছর (২০১৮-২২) ২৭ হাজার ৪৭৯টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ৫৯ হাজার ৯৬০টি।
সংবাদ সম্মলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসভাপতি ও নারীমৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসম্পাদক এবং অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, এডুকো বাংলাদেশের ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস ফারজানা খান, গুড নেইবারস বাংলাদেশের হেড অব এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ রাজিয়া সুলতানা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানির বড় কারণ হলো যথাযথ বিচার না হওয়া। যৌন হয়রানির ঘটনার বিচারের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন না থাকা ন্যায় বিচার পাওয়ার পথে একটি বড় প্রতিবন্ধক। এই সমস্যার কার্যকর সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি যথাযথ আইন। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছ যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।