প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ১৭:৪৫ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৫৯ পিএম
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে হওয়া বৃষ্টির পানিতে রাজধানীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ছবি : প্রবা
রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা থেকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের
কারণে হওয়া বৃষ্টির পানি এখনও নামেনি। গত রবিবার ও সোমবার রাজধানীতে অতিভারী বৃষ্টির
কারণে সৃষ্ট এই জলাবদ্ধতা কোথাও কোথাও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর পানি সরে গেলেও
ভেতরের দিকের রাস্তাগুলোতে তৈরি হয়েছে বেহাল দশা। দীর্ঘ প্রায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়
পানিতে নিমজ্জিত থাকায় অধিকাংশ সড়কের ছোটখাটো খানাখন্দ বড় আকার নিয়েছে। এর ফলে সড়কগুলোতে
যান চলাচলে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। এতে বুধবারও রাজধানীতে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট।
সোমবার সন্ধ্যায় দেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়
সিত্রাং। এর প্রভাবে গত রবিবার ও সোমবার রাজধানীতে রেকর্ড পরিমাণ ২৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত
হয়েছে। এতে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার ভয়াবহ জলজটের
কারণে নগরবাসীকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে একদিন পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর বেশ কিছু
অঞ্চলে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর,
মুনসুরাবাদ, মিরপুর-১-এর টোলারবাগ, পীরেরবাগ, শ্যামলী, কল্যাণপুর, তেজগাঁওসহ বিভিন্ন
এলাকার বেশ কিছু সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এসব এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পানি সরে না
যাওয়ায় বেশ কিছু ভবনের নিচতলা, বেজমেন্ট পার্কিং, রিজার্ভ ট্যাংকের পানি পাম্পের মাধ্যমে
অপসারণ করা হয়। একসঙ্গে অনেক ভবন থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের ফলে ওইসব এলাকার
রাস্তা, পয়ঃপ্রণালির ম্যানহোল নতুন করে সয়লাব হয়ে যায়। এতে রাস্তাগুলোতে সকাল থেকেই
শুরু হয় যানজট।
বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই রাজধানীর মিরপুর
রোড, মোহাম্মদপুর রিংরোড, মোহাম্মদপুর-ধানমণ্ডি সড়ক, খামারবাড়ি মোড় থেকে ফার্মগেট সিগন্যাল,
বিজয় সরণি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা
ও ভবন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কিছুটা
কম ছিল। বুধবার সকাল থেকেই সড়কে ছিল শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের চাপ।
আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মজীবী মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় যানজট আরও তীব্র আকার
ধারণ করে।
একই চিত্র দেখা যায় অফিস-আদালত ছুটির পরেও।
কর্মস্থল ছুটির সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর সৃষ্ট যানজট ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক ছাপিয়ে আশপাশের
অলিগলিতেও বিস্তৃত হয়।
রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের উভয় লেনেই যানবাহন
ধীর গতিতে চলতে দেখা যায়। ফলে ফ্লাইওভারের দুই প্রান্তেই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ফ্লাইওভারের
মহাখালী প্রান্ত থেকে যানজট চেয়ারম্যানবাড়ি, সৈনিক ক্লাব, কাকলী মোড় হয়ে বনানী ফ্লাইওভার
পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।
অন্যদিকে গাজীপুর-বিমানবন্দর সড়কের বেহাল
দশা ও ওই সড়কে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে খিলক্ষেত থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কের উভয়
পাশেই দেখা যায় তীব্র যানজট।
যানজটের এমন চিত্র ছিল কাওরানবাজার, বাংলামোটর,
পান্থপথ, মগবাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল হয়ে পুরান পল্টন এলাকা পর্যন্ত।
মতিঝিলের একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা
(এভিপি) মেহেরুল্লাহ মিঠু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শাপলা চত্বর থেকে মগবাজার
পর্যন্ত পৌঁছাতে আমার দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। যানজটের বাজে অবস্থা দেখে একপর্যায়ে শান্তিনগর
বেইলি রোডে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই বাসায় ফিরেছি।’
ব্যবসায়িক কাজে গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে যাওয়া মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৭টায় বাসা থেকে গুলিস্তান রওনা করে সাড়ে ১০টায় পৌঁছাই। সেখানে এক ঘণ্টার কাজ সেরে সাড়ে ১১টায় আবার রওনা দিয়ে আড়াইটায় টেকনিক্যাল মোড়ে পৌঁছাই।’
প্রবা/এমআর/এমজে