প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ২০:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ২০:৪৭ পিএম
শনিবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ। সংগৃহীত ছবি
অতীতে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠী ও নারীদের প্রতি বীভৎস নির্যাতনের মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে জানিয়ে নারী ও সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে তিনি এ দাবি জানান।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালনের অংশ হিসেবে ‘নারীর জন্য বিশ্ব গড়ো, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করো, সহিংসতা প্রতিরোধ করো’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কর্মসূচি সমন্বয়কারী মনিরুজ্জামান মুকুল, নারীনেত্রী মাসুদা রওশন, ঢাকা (পূর্ব) কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শেলিনা পারভীন, ঢাকা (পশ্চিম) কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. হেলালউদ্দিন, স্কুলছাত্রী পুষ্পিতা, রাশেদা প্রমুখ। মূল আলোচনাপত্র উপস্থাপন করেন সংগঠনের ইয়ুথ গ্রুপের প্রতিনিধি মাহমুদা আকন্দ।
রোকেয়া কবীর বলেন, আমরা এমন এক সময়ে নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনের প্রচারাভিযান চালাচ্ছি, যখন দেশের বাইরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতাদের প্রতি আমরা এই যুদ্ধ ও হত্যা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই। একইসাথে বিপুল পরিমাণ অর্থ যুদ্ধে ব্যয় না করে জনকল্যাণসহ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা শুরু করেছি। ইতোমধ্যেই নির্বাচনমুখী দলগুলো প্রার্থী যাচাই বাছাই নিয়ে ব্যস্ত। অথচ আগামী দিনে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে কোনো আলোচনা বা প্রতিশ্রুতি দেখা যাচ্ছে না।
মূল আলোচনায় ইয়ুথ গ্রুপের প্রতিনিধি মাহমুদা আকন্দ বলেন, বিশ্বের ৭৮ শতাংশ দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় আইন বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে। বরাদ্দ রয়েছে বাংলাদেশেও, তবে তা অতি নগণ্য। এমনকি নারী সহায়ক বিভিন্ন আইন বাস্তবায়নেও বরাদ্দ কম; যেমন জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে বরাদ্দ খুবই অপর্যাপ্ত। অন্যদিকে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ বাস্তবায়নে এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দই করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকার সর্বশেষ ৫৩টি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট ঘোষণা করেছে। তবে ঘোষিত বাজেটের ব্যয় মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় জেন্ডার বিভাজিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
শাহনাজ সুমী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে এবং এই বিনিয়োগ নারীর জন্য কোনো দয়াদাক্ষিণ্য নয়, এ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে নারীদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।