প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৫৭ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ২০:০৯ পিএম
গ্রেপ্তার চীনা নাগরিকসহ ১৫ জন। সংগৃহীত ছবি
ঘরে বসে টাকা আয় ও সহজে লোনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চক্রের ১৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম বিভাগ।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।
তিনি বলেন, হাতিরঝিল ও কাফরুল থানায় করা মামলার তদন্তে নেমে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। চক্রের প্রধান চীনা নাগরিকের নাম ঝ্যাং জি ঝাহ্যাং।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহজে ফোন দেওয়ার নামে ফাঁদে পা দিয়ে কেউ চীনা অ্যাপস ডাউনলোড করলেই বিপদে পড়েন। অ্যাপস ডাউনলোড করার পরই মোবাইলের ছবি, ভিডিও, কন্ট্র্যাক্ট লিস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য চক্রের হাতে চলে যায়। এরপর চক্রের সদস্যরা সেগুলো ব্যবহার করে লোন নেওয়া ভুক্তভোগীকে এই সব ছবি ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে। প্রথমে সরাসরি ভুক্তভোগীকে নানাভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। তাকে না পেলে বাবা-মাসহ পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের নাম্বারে আপত্তিকর বিভিন্ন ছবি তৈরি করে পাঠানো হতো। একইভাবে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ঘরে বসে দিনে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে- এমন এসএমএস পাঠিয়ে প্রলুবদ্ধ করে। আর এই প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
গোয়েন্দাপ্রধান বলেন, অভিযানের সময়ে তাদের কাছ থেকে ২৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ছয় মাসে এই সব মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৫০ কোটি টাকারও বেশি পাচার করেছে। সে হিসেবে গত দুই বছরে অন্তত ২০০ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করেছে। দেশে এখন পর্যন্ত এই চক্রের হাতে অন্তত দেড় হাজার মানুষ প্রতারিত হয়েছে। এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে ভারতে অনেক মানুষ মারা গেছে। অ্যাপসটি চীনা নাগরিকদের তৈরি। এটির সার্ভার সিঙ্গাপুরে। আর কলসেন্টার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে রয়েছে। পাকিস্তানি নাম্বার দিয়ে বাংলাদেশিদের কল করা হয়। আর বাংলাদেশি নাম্বার ব্যবহার করে ভারতীয়দের কল করা হতো।
হারুন বলেন, চক্রটি অল্প টাকা দিয়ে ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই ৮ লাখ টাকা নিয়েছে। চক্রের ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। তারা আত্মগোপনে আছে। তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান আছে।