প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২২ ১২:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০৮ পিএম
প্রবল বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ছবি : প্রবা
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে টানা বর্ষণে সোমবার রাত থেকে পুরান ঢাকার বংশালের সিক্কাটুলী, মকিম বাজার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অনেক ভবনের নিচতলায়ও পানি ঢুকে গেছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিভ্রাটের কারণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পুরান ঢাকার বংশাল, নাজিরাবাজার, আলুবাজার, নাজিমউদ্দীন রোড, বড় কাটারা, চকবাজার, মাহুতটুলী লেনসহ বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার সকাল অবধি পানি জমে থাকার কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সিক্কাটুলীর বাসিন্দা সুমিত আহমেদ বলেন, কাল রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে আমার বাসার নিচতলায় পানি ঢুকেছে। বাথরুমেও পানি উঠে গেছে। এর আগেও এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু এতটা পানি ওঠেনি। কাল রাত থেকে পানি সেচেই চলেছি।
নাজিরাবাজারের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা হালদার বলেন, সড়কে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি। নোংরা পানি ঠেলে অফিসে আসতে হয়েছে৷
মাহুতটুলী লেনের বাসিন্দা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, গতকাল রাতে পরিস্থিতি খুবই বাজে ছিল। অফিস থেকে ফেরার পথে সড়কে পেলাম কোমরসমান পানি। মঙ্গলবার সকালে তা নেমেছে হাঁটুর নিচে। এলাকার অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে এমনিতেই দুর্ভোগের শেষ থাকে না। এখন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আরও কয়েক দিন বৃষ্টি হলে আর এলাকায় থাকার জো থাকবে না।
মকিম বাজারের বাসিন্দা ও ইয়ামাহা রোজ অটোজের কর্মচারী তানভীর হোসেন বলেন, সড়কে হাঁটুসমান পানি। আজ দোকানই খোলা যায়নি। আবার বৃষ্টি হলে দোকানেও পানি ঢুকে যাবে। খুব বাজে অবস্থা।
চানখারপুলের বাসিন্দা উত্তরার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক জবা বিশ্বাস বলেন, পানি ঠেলে মূল সড়কে এসে দেখি কোনো যানবাহন নেই। উবার কল করেছি, তাও নেই। সকালে স্কুলে যেতে পারিনি।
টানা ঢলে বিপাকে পড়েছে রাজধানীর ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষ। রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম এলাকায় যারা খোলা আকাশের নিচে প্লাস্টিকের তাঁবুতে রাতযাপন করেন, তারা এখন শুকনো জায়গা খুঁজছেন।
হাইকোর্ট মাজার গেটে অবস্থান নেওয়া গফুর আলী বলেন, আমি পঙ্গু মানুষ। বউকে নিয়ে ভিক্ষা করে খাই। এখানে প্লাস্টিক টানায়া থাকি। কাল সারা রাত ঝড় হইছে। সারা রাত ভিজছি দুজনে। আরও বৃষ্টি হইলে আমরা কই যাব?
প্রবল বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া মালিবাগের শান্তিবাগ, শান্তিনগর বাজারের বাসিন্দারাও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।
রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে সাতরাস্তার কর্মস্থলে আসার পথে কোনো যানবাহন না পেয়ে বাসায় ফিরে গেছেন হাসনাত কাদীর। তিনি বলেন, দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে খিলক্ষেত ফুটওভার ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু কোনো বাস, উবার, পাঠাও বা সিএনজি কিছু পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে বাসায় চলে এসেছি।
লক্ষ্মীবাজার থেকে সেগুনবাগিচায় অফিস করতে আসা শান্তা সরকার বলেন, লক্ষ্মীবাজারের একরামপুর মোড়ে সকালে পানি জমেছিল হাঁটুসমান। কোনো রিকশা বা সিএনজি পাইনি। রায়সাহেব বাজারে এসে রিকশায় ডাবল ভাড়া দিয়ে আমাকে অফিসে আসতে হয়েছে। অন্যদিন দেই ৮০ টাকা, আজ দিতে হয়েছে ১৫০ টাকা। কেউ কেউ তো ২০০ টাকাও দাবি করেছেন।
প্রবা/আরএম/এমজে