প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২২ ২১:৫১ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২ ২২:০৯ পিএম
গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ১০ সদস্য। ছবি : প্রবা
স্বর্ণের বার, কয়েন ও ম্যাগনেটিক পিলার দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বিমানবন্দর ও দক্ষিণখান এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ওয়ারী) বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বশির মোল্লা, শেখ সোহাগ হোসেন মিন্টু, দীন মোহাম্মদ, কথিত ডাক্তার মোজাম্মেল খান ওরফে আকাশ, শেখ আলী আকবর, জামাল ফরাজী, সোহেল শিকদার, বিল্লাল হোসেন ও শাহরিয়ার ইকবাল।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ আশরাফ।
তিনি জানান, চক্রের সদস্যরা নিজেদের কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা,পরমাণু বিজ্ঞানী ও কেমিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন।
ডিসি মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসের পাশে নিয়ে ভুক্তভোগীকে বলা হতো আপনি অপেক্ষা করেন আপনাকে অফিসের ভেতর থেকে স্বর্ণের বার এনে দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী বিশ্বাস করে স্বর্ণের বারের মূল্য হিসেবে টাকা দিতেন। কিন্তু কাস্টমসের ভেতরে ঢোকা সেই ব্যক্তি আর বের হয়ে আসতেন না। পরে ভুক্তভোগী বুঝতে পারতেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি এক নারীর কাছ থেকে রাজধানীর ভাটারা ও বসুন্ধরা এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ভাটারা থানায় মামলা করলে তদন্তে নেমে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হোতাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, বিমানবন্দর থানা পুলিশ ও দক্ষিণখান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে কাস্টমসের ভুয়া আইডি কার্ড, নকল সোনার বার, নকল সোনার বার তৈরির মেশিন উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, চক্রটি কেমিস্ট ও পরমাণু বিজ্ঞানীকে এমনভাবে প্রদর্শন করে যে, তাদের কাছে স্বর্ণের বারটি নিয়ে গেলে তারা এ বিষয়ে সার্টিফিকেট দেবে। এভাবে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চক্রটি এ পর্যন্ত ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা না গেলে ভাটারার ওই নারীর মতো অনেকে নিঃস্ব হয়ে যেত।
প্রবা/আরএম/এমআই