নারী মৈত্রীর মতবিনিময় সভা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ১৯:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ২০:১৩ পিএম
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা।
তামাক ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে জানিয়েছেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) সমন্বয়কারী অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার।
তিনি বলেন, তামাক থেকে রাজস্ব আয় প্রায় ২২ হাজার ৮১০ কোটি এবং চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। তামাকের কারণে বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। তামাক থেকে সরকারের যে রাজস্ব আয় আসে তার চেয়ে তামাক ব্যবহারজনিত কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা বাবদ ব্যয় ২৭ শতাংশ বেশি।
এ সময় মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার কথা জানান তিনি।
শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) পরিচালক (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ) শাহ শেখ মজলিশ ফুয়াদ, ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান, হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি, ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমদ, নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) ঢাকা ব্যুরোপ্রধান এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জুলহাস আলম, সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি।
শ্যামল দত্ত বলেন, ‘আইন পাসে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার নেই। সংসদে তামাকের পক্ষে লবিং খুবই শক্ত। শিশুদের কাছে তামাকপণ্য বিক্রি করবে না, প্রকাশ্যে ধূমপান করা যাবে না, এগুলো আইনে ছিল কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আমি মনে করি, আইন দিয়ে কিছু হবে না। সামগ্রিক অর্থে তামাককে নিরুৎসাহিত করতে না পারলে সেটি যদি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ না হয়, তাহলে আইন করে কোনো লাভ হবে না।’
শাহীন আকতার ডলি বলেন, বর্তমানে তরুণরা ই-সিগারেটের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের এই আসক্তি থেকে বের করে আনতে ই-সিগারেট বাজারজাত বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু তাই নয় বন্ধ করতে হবে সিগারেট এর খুচরা শলাকা বিক্রি। পাশাপাশি তামাকজাত পণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আকার ৫০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি করা ও বিক্রয় স্থানে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া তামাক শুকানোর কাজে গাছ কাটার কারণে ৩০ শতাংশ বন ধ্বংস হয়। বিড়ি সিগারেটের বিষাক্ত বর্জ্য হিসেবে ৪০ হাজার ৪৯০ টন বাট ও প্যাকেট পরিবেশ দূষণ করছে। তাই পরিবেশ রক্ষায়ও এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।