প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:৩৫ এএম
ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে শুক্রবার কোক স্টুডিও বাংলার কনসার্টে উচ্ছ্বসিত সংগীতপ্রেমীদের ভিড়। প্রবা ফটো
তারুণ্যের জোয়ার নেমেছিল বাংলা গানের কনসার্টে। সুরের ঝংকারে দর্শক-শ্রোতা মাতাতে দ্বিতীয়বারের মতো কোক স্টুডিও বাংলা আয়োজন করেছিল লাইভ কনসার্টের। কনসার্টকে কেন্দ্র করে তারুণ্যের যে উন্মাদনা তা দেখা গেল আরেকবার।
রাজধানীর বিনোদনপিয়াসী মানুষের জন্য ছুটির দিনে মেতে ওঠার মতো ছিল দুটি কনসার্ট। আর্মি স্টেডিয়ামের কোক স্টুডিও বাংলা লাইভ কনসার্টের পাশাপাশি ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছিল ‘নচিকেতা লাইভ ইন ঢাকা উইথ জয় শাহরিয়ার’। আর্মি স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছিল কোক স্টুডিও বাংলার মন মাতানো কনসার্ট। সন্ধ্যা নামার আগেই স্টেডিয়াম পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠ থেকে গ্যালারি শ্রোতা-দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০২২ সালের যাত্রা শুরু করে কোক স্টুডিও বাংলা। এর পর থেকে প্রায় ১০০ জন গায়ক ও শিল্পীকে নিয়ে ২২টি গান প্রকাশ করে তারা। সেইসব শিল্পী ও তাদের গাওয়া গান নিয়েই আয়োজন করা হয় কনসার্ট। সন্ধ্যা ৬টার পর কোক স্টুডিও বাংলার প্রথম সিজনের প্রথম গান ‘নাসেক নাসেক’ দিয়ে শুরু হয় পরিবেশনা। এরপর স্টেজ মাতাতে ‘দেওয়ানা’ গান নিয়ে আসেন সৌম্যদ্বীপ শিকদার, তাসফিয়া ফাতিমা ও সূচনা শেলী। তাদের গান শেষ হলে ‘ভবের পাগল’ গান নিয়ে স্টেজে আসেন জালালি সেট। তারা র্যাপের পাশাপাশি বিট বক্স করে দর্শক মাতিয়ে রাখেন। তাদের পারফর্ম শেষ হতেই মঞ্চে ওঠে মেঘদল। এই ব্যান্ড ‘বনবিবি’ ও ‘হাওয়া’ গানে ভাসিয়ে দেয় উপস্থিত শ্রোতাদের। তার পরপরই মঞ্চে আসেন অর্ণব ও বগা তালেব। প্রথম সিজনের জনপ্রিয় গান ‘চিলতে রোদে’ পারফর্ম করেন তারা।
হেমন্তের রাত তখন খানিকটা শীত নামাচ্ছে। এমন সময় শ্রোতাদের সুরের তালে নাচিয়ে দেন ব্যান্ড লালন, ইসলাম উদ্দিন পালাকার, মমতাজ, মিজানের মতো জনপ্রিয় তারকারা। ফোক, বাউলিয়ানা গানে গানে আর্মি স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে সুরের এক মহামঞ্চ। সবশেষ পারফর্ম করতে আসে ব্যান্ড আর্টসেল। তাদের পারফর্মেন্সের মধ্য দিয়ে কোক স্টুডিও বাংলার ম্যাজিকাল এক্সপেরিয়েন্স কনসার্টের দ্বিতীয় সিজনের সমাপ্তি হয়।
দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামের গেট দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আর বাইরে আর্মি স্টেডিয়ামের চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়৷ আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, মাঠে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন মাত্র ৪০-৫০ হাজার শ্রোতা৷ বাইরে তার চেয়েও বেশি দর্শক-শ্রোতা দাঁড়িয়েই কনসার্ট উপভোগ করার চেষ্টা করেন৷ এই বিপুল উপস্থিতি ছুটির দিনেও রাজধানীর একাংশে যান চলাচলে প্রভাব ফেলে। এয়াপোর্ট রোডে দেখা দেয় যানজট। ভেঙে পড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা। নাকাল হন বনানী, বাড্ডা, গুলশান, বিমানবন্দর এলাকার যাত্রীরা। কেবল বইরেই নয়, কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে ভেতরেও। উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা গেছে কিছু কিশোর দর্শককে। তবে সুরে-তালে মুগ্ধ হয়ে শ্রোতারা ফিরে গেছেন হৃদয় ভরিয়ে, আবার দেখা হবে সেই প্রত্যাশায়৷