প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ২২:১৩ পিএম
বক্তব্য রাখছেন সৈয়দ আবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন। প্রবা ফটো
নিজ কর্মের মধ্যে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, সৈয়দ আবুল হোসেন ছিলেন সমৃদ্ধশালী জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি শুধু সফল ব্যবসায়ী বা রাজনীতিবিদই নন, তিনি ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী, মুক্তিযোদ্ধা, সৃজনশীল লেখক ও গবেষক।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সৈয়দ আবুল হোসেন স্মরণে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, সৈয়দ আবুল হোসেন ছিলেন একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ। পরপর চারবার সংসদ সদস্য ও তিনবার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। এই সময়ে তিনি দেশের আত্মসামাজিক এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে তার অবদান জাতি চিরদিন মনে রাখবে। তার সময়ে পদ্মাসেতু প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন এবং প্রকল্পের বাস্তবায়নে তাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিচিতি এনে দিয়েছে। এমনকি পাটুরিয়া-গোয়ালন্দে দ্বিতীয় পদ্মাসেতুও একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছিল।
সৈয়দ আবুল হোসেন ডাসার-কালকিনি-মাদারীপুর উন্নয়নের রূপকার ছিলেন উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আজ এলাকাটি উন্নয়নের মহাসড়কে সামিল হয়েছে। শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, বিনিয়োগ, উৎপাদন, ঐক্য, প্রগতি, চিকিৎসা, বাসস্থান- এককথায় স্বচ্ছল আধুনিক জীবনযাপনের রোলমডেল হিসেবে পরিচিত হয়েছে। তারই প্রচেষ্টায় ডাসার আজ উপজেলা। যার একক কৃতিত্ব শুধুই তার।
দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন- সৈয়দ আবুল হোসেনের জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ। নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেন ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৬টি কলেজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে তুলেছেন দেড় শতাধিক প্রাথমিক কমিউনিটি বিদ্যালয়। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা আজ দেশে-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠিত কর্মী। তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও উপাসনালয় প্রতিষ্ঠায়, প্রভূত আর্থিক সহায়তা করেছেন।
স্মরণ সভায় স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সৈয়দ আবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন, সৈয়দা ইফফাত হোসেন, সাবেক সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীপ্রমুখ।
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন সৈয়দ আবুল হোসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, সদাহাস্যজ্বল সৈয়দ আবুল হোসেন ছিলেন দূরদর্শী নেতা। কিভাবে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন করা যায়, সেটাই ছিলো তার চিন্তা-চেতনা। আজীবন মানব কল্যাণে কাজ করেছেন।
অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সৈয়দ আবুল হোসেন ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। শিক্ষাকে প্রতিভা ও মেধা বিকাশের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করেছেন। আমার এই ছাত্রের জন্য আমি গর্বিত।