প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১৭:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১৮:৩৩ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। ছবি : প্রবা
পাহাড়ে জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রতি অভিযান শুরু করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানের মুখে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে জঙ্গিরা। অব্যাহত রয়েছে র্যাবের অভিযান। পাহাড়ে জঙ্গি আস্তানা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা জানান।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা এখন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। যেখানেই তথ্য পাচ্ছি, সেখানেই আমরা যাচ্ছি। সম্প্রতি জঙ্গিদের একটি ক্যাম্প আমরা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের সাঁড়াশি অভিযানের কারণে জঙ্গিরা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত জঙ্গিদের সঠিক অবস্থান আমরা জানতে না পারব, ততদিন অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
র্যাব জঙ্গি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে দাবি করে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘জঙ্গিরা সমতলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযানের কারণে টিকতে পারেনি। ফলে তারা পাহাড়ে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। তারা সমতলে শান্তিতে ছিল না।’
পাহাড়ে অভিযান চালানোর চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আমরা যেখানে অভিযান পরিচালনা করছি, সেটি অত্যন্ত গহিন ও দুর্গম অঞ্চল। সেখানে পাহাড়ের এভারেজ উচ্চতা আড়াই হাজার ফুট। এখানে অভিযান পরিচালনা করা অনেক দুরূহ। এ সুযোগে জঙ্গিরা ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করছে।’
উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর রাত থেকে বান্দরবান ও রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান শুরু করে র্যাব। ২০ অক্টোবর মধ্য রাতে রাঙামাটির বিলাইছড়ির সাইজামপাড়া ও বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৭ ও র্যাব-১৫। অভিযান থেকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারাক্বীয়া জঙ্গি সংগঠন ও তিনজন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের সদস্য।
এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রস্তাবিত ‘কুকি-চিন স্টেটের’ ১০টি মানচিত্র, ৯টি এসবিবিএল বন্দুক, ৫০ রাউন্ড গুলি, ৬২টি কেস কার্তুজ, ছয়টি হাতবোমা, একটি কার্তুজ, দুটি বেল্ট, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি ওয়াকিটকি, তিনটি ওয়াকিটকি চার্জার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
প্রবা/টিএ/এমআই