প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:২৩ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩ ১৮:০২ পিএম
প্রবা ফটো
১০ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ও ৩ নভেম্বর—জেলহত্যা দিবসকে ‘জাতীয় শোক দিবস’ ঘোষণাসহ তিন দাবিতে গণভবনের সামনে অবস্থান করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। দাবির বিষয়ে যৌক্তিক জবাব না পেলে গণভবন থেকে না ফেরার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা) গণভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে অবস্থান করছিলেন সোহেল তাজের বোন শারমিন আহমদ রিতিসহ অনেক নেতাকর্মী।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় এই দিনটি। দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সোহেল তাজ জেলহত্যা দিবসকে ‘জাতীয় শোক দিবস’ ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানিয়ে আসছেন। গেল বছরের ১০ এপ্রিল একই দাবিতে গণভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করেন তিনি।
সম্প্রতি সোহেল তাজ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ফের একই দাবি জানান। পোস্টে ৩ নভেম্বর ‘জাতীয় শোক দিবস’ ঘোষণাসহ তিন দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার গণভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘৩ নভেম্বর কলঙ্কময় জেল হত্যা দিবস। দেখতে দেখতে ৪৮ বছর পার হয়ে গেলো, অথচ এখন পর্যন্ত জাতির এই চার বীর যাদের নেতৃত্বে সফলভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হলো, যাদের নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেলাম এবং যাদের প্রচেষ্টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে বাংলার বুকে ফিরে পেলাম- আজ অবধি রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের কোনো স্বীকৃতি নাই। এটা মেনে নেওয়া যায় না!’
একই সঙ্গে তিনটি দাবি তুলে ধরে তিনি লেখেন, যেহেতু ১০ই এপ্রিল, ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় সেহেতু বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র (প্রজাতন্ত্র) হিসেবে জন্ম লাভ করে তাই এই দিনটিকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা করতে হবে; ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবসকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে এবং জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বেসামরিক ও সামরিক সংগঠক, পরিচালক, অমর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, অবদান ও জীবনীসহ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তকে ও সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখান থেকে পরে (মানিক মিয়া এভিনিউ) গণভবনের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন তারা।
এসময় সাংবাদিকদের সোহেল তাজ বলেন, ‘আগামীকাল ৩ নভেম্বর জাতির ইতিহাসে একটি নির্মম অধ্যায়। ওই দিনে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। এই জাতীয় চার নেতা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় তাদেরকে নির্মমভাবে কারাগারে হত্যা করা হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে জেল হত্যা দিবস পালন করা হচ্ছে না।’
দাবির বিষয়ে যৌক্তিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত গণভবন থেকে সরে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। তারপরও ১০ এপ্রিলকে কেন প্রজাতন্ত্র দিবস ঘোষণা করছে না? ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে জেলে হত্যা করা হয়েছে; সেই ৩ নভেম্বরকে কেন জেলহত্যা দিবস পালন করতে হবে? জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ব্যক্তিদের জীবনীসহ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তকে ও সিলেবাসে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হবে না- এই প্রশ্নের সঠিক যৌক্তিক উত্তর যতক্ষণ না পাব ততক্ষণ পর্যন্ত আমি গণভবন থেকে ফিরে যাব না।’
সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দাবিগুলো কি অযৌক্তিক?... সেটা আমাকে বলতে হবে। যদি যৌক্তিক হয়ে থাকে আমি অতিসত্তর দাবিগুলো বাস্তবায়নে দাবি জানাই। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে অবস্থান করব। এক দিন হোক, দুই দিন হোক, আর দশ দিন হোক; যতক্ষণ না মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উত্তর পাব, ততক্ষণ আমি সেখানে অবস্থান।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আপনার কথা বলার সুযোগ হয়েছে, আপনি কখনো এই দাবিগুলো তাকে জানিয়েছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় না। এটি একটি রাষ্ট্রীয় বৃহৎ বিষয়। আমি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্পিকারের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছি। এখানে ব্যক্তিগত কিছু নেই।’