হলি আর্টিজান হামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৩ ২২:১৭ পিএম
ফাইল ছবি
হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আরিফুল ইসলাম ও আমিমুল এহসান জুবায়ের।
আইনজীবী আরিফুল ইসলাম বলেন, ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আনা হয়েছিল এবং খালাস চেয়ে আপিল করা হয়েছিল। হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে দেন এবং আপিল আংশিকভাবে গ্রহণ করে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন।
আদালত রায়টি বাংলায় ঘোষণা করেন। পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে যে নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডটি জনসাধারণের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টিসহ জননিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে। তাই মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আপিলকারীদের আমৃত্যু কারাদণ্ডে (স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত) দণ্ডিত করা হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
২০১৬ সালে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ ছাড়া একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ক্যাফেতে ১২ ঘণ্টা ধরে জঙ্গিরা কয়েক ডজন মানুষকে জিম্মি করে এবং ১৭ জন বিদেশি ও দুই পুলিশ সদস্যসহ ২২ জনকে হত্যা করে। এ জঙ্গি হামলায় অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ও দুজন বাংলাদেশি।