× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

র‌্যাব-পুলিশে ব্যাপক প্রস্তুতি, বিশেষ প্রশিক্ষণ

আলাউদ্দিন আরিফ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ১০:৪২ এএম

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:৫৭ পিএম

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান। প্রবা ফটো

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান। প্রবা ফটো

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। সব মিলিয়ে রাজধানী ঢাকায় থমথমে পরিস্থিতি চলছে। জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সবার প্রশ্নÑ কী ঘটবে আজ?

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর মাঠে থাকছে প্রায় ১২ হাজার পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য। দুই পক্ষের সমাবেশস্থল ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) আওতায় আনা হয়েছে। রাখা হয়েছে ড্রোন দিয়ে সমাবেশ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা। থাকছে অ্যান্টি পার্সোনেল কার (এপিসি), রায়ট কার, জলকামান ও দাঙ্গা দমনের সরঞ্জামসহ সশস্ত্র পাহারা। রাজধানীর প্রবেশপথসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন আগে থেকেই টহল ও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। এ ছাড়া পিলখানায় প্রস্তুত থাকবেন বিজিবি সদস্যরা। সাদা পোশাকে থাকছেন গোয়েন্দা সদস্যরা। ডিএমপিতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে পুরো পরিস্থিতি তদারক করছেন ডিএমপি কমিশনার নিজেই।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সকল ক্রাইম বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ও ৫০ থানার ওসিকে নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন কমিশনার হাবিবুর রহমান। বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ। আবার ঝটিকা মিছিলসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল করতে পারে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপিকর্মীরাও মিছিল নিয়ে সমাবেশের দিকে যাবেন। ফলে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি মাথায় রেখে ‍পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সাজানো হয়েছে। 

দাঙ্গা-হাঙ্গামা হলে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সে বিষয়ে সপ্তাহ ধরে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কয়েক ধাপে ঢাকার ৫০ থানার ওসিসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ঢাকার পূর্বাচল এলাকায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সদস্যদের দুই দলে ভাগ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে পুলিশের মধ্য থেকে একদলকে দিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা তৈরি করা হয়েছে। আরেকটি দলকে দিয়ে সেই দাঙ্গা-হাঙ্গামা দমন করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দাঙ্গা-হাঙ্গামা হলে কীভাবে সাউন্ড গ্রেনেড, প্রাণঘাতী নয় এমন বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করবেনÑ সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বড় দুই দলকে অভিন্ন শর্তে অনুমতি 

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে অভিন্ন ২০ শর্তে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, নয়াপল্টনেই বিএনপিকে অনুমতি দেওয়া হবে। তাদের যেসব শর্ত দেওয়া হবে সেগুলো মানতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে ডিএমপি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খ. মহিদ উদ্দিন জানান, তারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলকেই চৌহদ্দি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বিএনপির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নাইটিঙ্গেলের মোড় থেকে পুলিশ হাসপাতালের মোড় পর্যন্ত জায়গার মধ্যে তাদের সমাবেশ ও মাইক ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তারা মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে পশ্চিমের মুক্তাঙ্গন পর্যন্ত সমাবেশ ও মাইক ব্যবহার করতে পারবে। দুই দলের ক্ষেত্রেই পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা থাকবেÑ তারা কোনো লাঠিসোটা কোনোভাবেই সমাবেশে আনতে পারবে না, কোনো ব্যাগ বহন করতে পারবে না, রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো বক্তব্য দিতে পারবে না, জনদুর্ভোগ এড়াতে তাদের যতটা সম্ভব স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দলেই ছবি সংবলিত পরিচয়পত্রসহ তাদের স্বেচ্ছাসেবক বা শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক রাখবে, যারা পুলিশকে সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো দলই আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার মতো কোনো কাজ করবে না। যদি কোনো দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বিষয় দেখি, কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন নিতে হবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে এই অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা রাখবে।’

অনুমতি পাবে না জামায়াত

শুক্রবার বিকালে বিএনপির সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। পরে তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিবন্ধনহীন কোনো রাজনৈতিক দলকে কোনো ধরনের সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘নিবন্ধনহীন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী মাঠে নামলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ বিষয়ে ডিএমপির গোয়েন্দাপ্রধান বলেন, নির্দিষ্ট কোনো দলের লোকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের রুটিন ওয়ার্ক করছে। শুধু সমাবেশকে কেন্দ্র করেই নয়, সব সময়ই ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়। সমাবেশ ঘিরে নাশকতার কোনো তথ্য নেই জানিয়ে হারুন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকে। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে।

এর আগে বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান। তিনি জানান, ‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই।’ গ্রেপ্তার ও তল্লাশির বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে তল্লাশি চলছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

টহল ও তল্লাশি জোরদার 

রাজধানীর সব ক’টি প্রবেশমুখে টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পয়েন্টে পয়েন্টে পুলিশকে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন, সন্দেহভাজনদের দেহ, ব্যাগপত্র ও মোবাইল ফোন তল্লাশি করতে দেখা গেছে। ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করছে। তারা যাতে নিরাপদে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে মানুষ জমায়েত হবে, জমায়েতগুলোতে যাতে আইনশৃঙ্খলাবিরোধী পরিস্থিতির অবনতি না হয়, পাশাপাশি রাজধানীবাসী যাতে নিরাপদে থাকে সেজন্য আমরা নিরাপত্তা বিধান করছি। এরই অংশ হিসেবে প্রবেশপথসহ বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।’

বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীদের আটকের অভিযোগ অস্বীকার করে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সঠিক নয়। সমাবেশে আগতদের নিরাপত্তাবিধান করা আমাদের দায়িত্ব। যাতে কারও নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সেজন্য তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরপরাধ ব্যক্তির ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

হোটেল রেস্তোরাঁয় অভিযান, গ্রেপ্তার দুই শতাধিক

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ফকিরাপুল, মতিঝিল, আরামবাগ, পল্টন, সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, শান্তিনগর, বেইলী রোড ও মতিঝিল এলাকার হোটেল রেস্তোরাঁগুলোয় পুলিশ হানা দিয়েছে। রাত ১০টার পর হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফকিরাপুলের গাউসিয়া হোটেলের একজন কর্মচারী বলেন, ‘আগে সারা রাত হোটেল খোলা রাখলেও আজ (শুক্রবার) রাত ১০টার পর হোটেল খোলা রাখা যাবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’ বৃহস্পতি ও শুক্রবার ৩৩৪ জনকে আদালতে তোলা হলে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা