প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:০১ পিএম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ২১:৫১ পিএম
প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবু হানিফ ওরফে তুষার। প্রবা ফটো
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের (দুর্বল প্রার্থীদের) টার্গেট করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন আবু হানিফ তুষার ওরফে হানিফ মিয়া। এরপর নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করতেন। এভাবে তিনি অন্তত ১০-১২ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১-এর অভিযানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আবু হানিফ তুষার ওরফে হানিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, গাড়ি, ভিডিও ও এডিট করা ছবি উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়।
-652fa31aae929.jpg)
র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় তার সঙ্গে ১০ থেকে ১২ জনের যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন বা পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এ পর্যন্ত ৩০ জনকে সরকারি চাকরি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আবু হানিফ প্রতারণা করার জন্য বিভিন্ন সময় নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করতেন। মোবাইলে বিদেশি নম্বর প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নামে সেভ করতেন। এরপর বিশ্বাস অর্জনের জন্য পরিবারের সদস্য সেজে পদায়ন ও পদোন্নতি, সরকারি চাকরি দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রতারণার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন। এমনকি প্রতারণার বিষয়টি আরও নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি এডিট করে বসাতেন। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের অংশ নিয়ে কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে তার টার্গেট করা ব্যক্তিদের পাঠাতেন।
কমান্ডার মঈন বলেন, আবু হানিফ এইচএসসি পাস হলেও তিনি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে বলে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। ২০০৮ সালে মোটরপার্টসের ব্যবসা করতেন তিনি। পরিবহন খাতে দেশের বিভিন্ন রুটে তুষার এন্টারপ্রাইজ পরিবহন নামে তার বেশ কয়েকটি বাস ও নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য প্রাইভেটকার রয়েছে। তিনি ঢাকার নাখালপাড়া ও ধানমন্ডি এলাকায় দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বলেও মিথ্যা প্রচারণা চালাতেন।
এই র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে একজন সুপরিচিত রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন আবু হানিফ। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কৌশলে রাজনীতিবিদ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে পরিচিত হতেন। পরে সুসম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অফিস বা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি তুলে এবং প্রতারণার কাজে এই ছবিগুলো ব্যবহার করতেন। ২০১৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন।
এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্পন্সর করে বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসা, প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পত্তির মালিক হওয়া, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় একাধিকবার কারাভোগও করেছেন আবু হানিফ, জানান কমান্ডার আল মঈন।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, ২০১৫ সালে হানিফ যে ব্যক্তির পিএস হিসেবে কাজ করতেন তাকেও মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তিনি এভাবে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।