প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ২১:০১ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ২১:২২ পিএম
প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন- ২০২২’ এর আলোচনা সভায় অতিথিরা। প্রবা ফটো
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ২০০৯ সালে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এই আইন প্রণয়নে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন এই আইনের খসড়া তৈরির কাজ করেছে। খসড়াতেও বেশকিছু পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের প্রয়োজন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন- ২০২২’ এর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি প্রমুখ।
কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০২ সাল যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৯ সালে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও আসে। এরপর ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে অনেক বেশি অগ্রগতি হওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, সব পক্ষ চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের কাজে সম্পৃক্ত হতে পারে। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে যৌন হয়রানির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি বলেন, খসড়া আইনে ৩০টি ধারা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষের পাঁচ সদস্যের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য অভিযোগ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজা বলেন, খসড়া আইনটি নিয়ে আরও কাজ করার প্রয়োজন আছে। দেশে লাখ লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সে সব প্রতিষ্ঠানে কমিটি করা এবং তাদের আইনগত ক্ষমতা দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, কারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কাদের মাধ্যমে হচ্ছেন, সেটা দেখতে হবে। নারীর পাশাপাশি পুরুষদেরও এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। অনলাইন অফলাইন সব জায়গাতেই যৌন হয়রানি হচ্ছে। পরিবার থেকে যৌন হয়রানি শুরু হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বক্তারা যখন বয়ান দেন, সেখানেও ভাষাগত বিভিন্ন বিষয় থাকে। সেখান থেকেও অনেকে যৌন হয়রানিতে উ্দ্বুদ্ধ হয়।
সভায় বক্তারা রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে যেন এই আইনের বিষয়টি যুক্ত করেন, সে ব্যাপারে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বেসরকারি সংস্থা এডুকোর সহায়তায় জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম এই সভার আয়োজন করে।