ইউনিসেফের সভায় কিশোরীরা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৩ ১৭:৫৩ পিএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:০৪ পিএম
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিশু-কিশোরীরা। প্রবা ফটো
‘সবাই যখন স্কুলে টিফিনের সময় খেলাধুলা করত, আমি বাসায় গিয়ে আমার বাচ্চার দেখাশোনা করতাম।’ বাল্যবিয়ের পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও নিজের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলছিলেন রাজধানীর ধলপুরের পাখি আক্তার।
বুধবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিশু কিশোরীরা নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
‘কন্যাশিশুর অধিকারের জন্য বিনিয়োগ : আমাদের নেতৃত্ব, আমাদের সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে এবার সারা বিশ্বে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস।
সভায় বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রামেশ সিং, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ওআইসি ভিবেন্দ্র এস রাঘুবংশী, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক বেটসিয়া জোরিও, জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সদস্য লতা মণ্ডল প্রমুখ।
পাখি আক্তার বলেন, বিয়ের পর নিজের অজান্তেই পাল্টে যাই। কিছুই ভালো লাগতো না। পরিবারের আর্থিক সংকটে আমার বিয়ে হয়। তখন মাত্র বয়স ১৬ বছর। ১৭ বছর বয়সেই আমার কোলে আসে কন্যাসন্তান। আমার বয়স এখন ১৯ বছর। একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় কাউন্সিলিং করি নিজের। সাহস করে আবার পড়াশোনা শুরু করি। স্বামীরও আর্থিক অবস্থা ভালো না। সেলাই কাজ শুরু করি, ব্যাগ তৈরি করি তা থেকে কিছু আয় হয়। পড়াশোনাটা সে টাকা থেকে করছি। আমি চাই না আর কারও আমার মতো অবস্থা হোক।‘
পাখির মতো নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ফারিয়া নুসরাত। তিনি বলেন, ‘স্কুলে যাওয়া আসার সময় ছেলেরা খারাপ কথা বলত। মা বলে, মেয়ে হয়েছো এসব তো বলবে, চুপ করে থাকো। কিছুদিন পর কোভিড শুরু হলে লকডাউনে আমার বিয়ে দেওয়া জন্য পাগল হয়ে যায় আমার মা। অনেক কষ্টে সেই বিয়ে আটকাতে সক্ষম হই।’
সভায় বাল্যবিয়ে রোধে শিশুদের পাশাপাশি পরিবারকেও কাউন্সিলিং করানোর আহ্বান জানান কিশোরীরা। কোনো শিশু যেন বাল্যবিয়ের শিকার না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনকে জোরালো উদ্যোগ নিতেও বলেন তারা।
নারী ক্রিকেট দলের সদস্য লতা মণ্ডল বলেন, ক্রিকেটে আসতে চেয়েছিলাম যখন, তখন সবার আগে পরিবার বলে এসবের দরকার নেই, সংসার করবা। আমার মনে হয় মেয়েদের পরিবারের সাপোর্টটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাহলে তারা এগিয়ে যেতে পারবে।
সারাহ কুক বলেন, কন্যাশিশুদের শিক্ষায় বিনিয়োগকে সেরা বিনিয়োগ হিসেবে মনে করি আমি। কেননা, আজকের এই কন্যাশিশুরাই ভবিষ্যতের প্রজন্মের হাল ধরবে।
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর বেটসিয়া জোরিও বলেন, আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় কৈশোরের সময়টুকু। এ সময় নানা মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। এ কঠিন সময়টা আমি নিজেও পার করেছি। এই সময়ের কিশোরীদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য, তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য বাল্যবিয়ে বন্ধের বিকল্প নেই।