হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের সম্মেলনে বক্তারা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:৩৫ পিএম
বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের প্রথম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা। প্রবা ফটো
বাবার সম্পত্তিতে নারীর অধিকার, বিবাহ বিচ্ছেদের পর নারীকে পুনরায় বিয়ের সুযোগসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ। এ সংগঠনের নেতারা সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, এসব ক্ষেত্রে অনেক বাধা আসবে সেসব বাধা অতিক্রম করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।
শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের প্রথম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বিভিন্ন দাবি জানান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। হিন্দু আইন সংস্কার আন্দোলনের পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৩তম জন্মজয়ন্তীর যুগপৎ আয়োজন হিসেবে এ সম্মেলনের স্লোগান ছিল ‘বিদ্যাসাগরের পথ ধরে’।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত। বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ময়না তালুকদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পুলক ঘটক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক সুভাষ সাহা।
সাংবাদিক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘শুধু বিধবা বিবাহ আন্দোলন নয়, বাল্যবিবাহ এবং পুরুষদের বহুবিবাহের বিরুদ্ধেও বিদ্যাসাগর প্রাণপণ লড়েছেন। স্বাধীন হওয়ার পর ভারতে নতুন করে হিন্দু আইন প্রণয়ন করা হয় এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দু আইন এখনো সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি হিন্দু আইনের আওতাধীন নারীদের সম-অধিকারের জন্য আমরা যেসব সংস্কার দাবি করছি তা শতভাগ বাস্তবায়িত হবে। জনগণ তা গ্রহণ করবে এবং উপকার পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বিধবার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বের বিধান নয়, আরো বিভিন্ন কারণে নারীকে দ্বিতীয়বার বিয়ের নির্দেশনা আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে স্ত্রী পরিত্যাগ করা যাবে তার নির্দেশনা বিভিন্ন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। বিদ্যাসাগরের দেখানো পথে যখন আমরা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে নারীকে নিজের মতো বাঁচতে দেওয়া বা পুনরায় বিয়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আইন প্রণয়নের পক্ষে কথা বলছি, এখনো একটি মহল শাস্ত্র মানতে রাজি নয়। তাদের সেই পুরাতন কথাÑ হিন্দু বিয়ে জন্মজন্মান্তরের বন্ধন। কিন্তু তাদের যুক্তি মতে বন্ধনটা কিন্তু শুধুই নারীর জন্য। পুরুষের কোনো বন্ধন নেই – তারা চাইলে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যতগুলো ইচ্ছে বিয়ে করতে পারে, এমন কি রক্ষিতাও রাখতে পারে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিলন কান্তি দত্ত হিন্দু আইন সংস্কার আন্দোলনের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কখনো সাহস হারাবেন না। যারা বিরোধিতা করছে, সেটা সময়ের স্বীকার। তাদের অনেকই হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু এখন যখন তাদের ছেলে-মেয়েদের বিদেশ গমনে জটিলতা তৈরি হয়েছে এখন তারাই বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের জন্য মন্দিরের (ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির) সামনে ঘোরে। বর্তমানে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন পালনে বাধ্যবাধকতা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের দাবিগুলো হলোÑ নারী, প্রতিবন্ধী ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীকে সম্পত্তিতে সমান অধিকার দেওয়া, স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও বহুবিবাহের সুযোগ বাতিল করা, বিবাহবিচ্ছেদের বিধান থাকা, সন্তানের ওপর নারীর অভিভাবকত্বের স্বীকৃতি দেওয়া, সন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকার দেওয়া ও বিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা।