বিশ্ব নদী দিবস
বুড়িগঙ্গা পরিদর্শন কর্মসূচিতে বাপার তথ্য
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:০৮ পিএম
বুড়িগঙ্গা নদী। ছবি : সংগৃহীত
সংজ্ঞা জটিলতার কারণে দেশের বেশিরভাগ নদী ধ্বংস হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। গতকাল বিশ্ব নদী দিবস-২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত ‘র্যালি, বুড়িগঙ্গা নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন’ কর্মসূচিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। এদিন সকালে বাহাদুর শাহ পার্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত র্যালি করে বাপা। এরপর সদরঘাট থেকে নৌকাযোগে বুড়িগঙ্গা নদী সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে বসিলা ব্রিজে শেষ হয় কর্মসূচিটি।
বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাপার সহসভাপতি যথাক্রমে মহিদুল হক খান, অধ্যাপক এম শহীদুল ইসলাম ও স্থপতি ইকবাল হাবিব, বাপার যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রসুল, যুগ্ম সম্পাদক এবং গ্রিন ভয়েসের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমন ও বাপার নির্বাহী সদস্য জাভেদ জাহান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাপা জাতীয় কমিটির সদস্য ও ক্লিন রিভার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মহাজন, বাপা জাতীয় কমিটির সদস্য যথাক্রমে হাজী আনসার আলী, আরিফুর রহমান প্রমুখ।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নদী পরিবেশের অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ। নদীর সংজ্ঞা জটিলতায় পড়ে দেশের বেশিরভাগ নদীই ধ্বংসের মুখে। দ্রুত সংজ্ঞা জটিলতা দূর করে যে নদীগুলো টিকে আছে সেগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে দখল ও দূষণ থেকে নদীগুলো উদ্ধারের দাবি জানান তারা। এ ছাড়া দেশের নদীগুলোকে মাছ চাষ উপযোগী করারও দাবি জানান নদী সংরক্ষণকর্মীরা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো সরকারের অকার্যকর যন্ত্রের কারণে দখল-দূষণে জর্জরিত। সরকারের সদিচ্ছা ও একটি কঠিন পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের নদীগুলো রক্ষা করা সম্ভব। বাপার আন্দোলনের ফলেই একদিন নদী কমিশন গঠিত হয়েছিল; বাপা ও দেশের পরিবেশবাদীদের আন্দোলনে এ কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে।
মহিদুল হক খান বলেন, যারা নদীগুলোকে দখল ও দূষণের মাধ্যমে গ্রাস করছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। আগে নদী এরপর নগরায়ণ। নদীকে মেরে নগরায়ণ চাই না। আমরা সরকারের কাছে দেশের নদীরক্ষার দাবিগুলো তুলে ধরব।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নদীর প্রকৃত সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেশের দখল হওয়া নদীগুলো উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি নদীর চার পাশ দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগীও করতে হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসার ময়লা যেন নদীতে না ফেলা হয় সেটি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
আলমগীর কবির বলেন, নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে। এ ছাড়া দেশের নদীগুলো সংরক্ষণে নদীর পাড়ে বসবাসকারীদের আন্দোলন গড়ে তুলতেও তাগিদ দেন তিনি।