প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:০৮ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:০৯ পিএম
রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ফটো
রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। শারীরিকভাবে অস্বস্তিবোধ করায় মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছুটা স্বস্তি বোধ করায় বেলা প্রায় সোয়া ২টার দিকে কেবিনে আনা হয়। দলটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এদিন সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে অস্বস্তিবোধ করলে খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। পরে তাকে কেবিনে নেওয়া হয়।’ তিনি জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল এখনও পাওয়া যায়নি।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক জাহিদ হোসেনের বরাতে বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছিলেন, বিএনপিপ্রধানকে সকালে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। তার শয্যাপাশে আছেন ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।
৭৮ বছর বয়েসী খালেদা জিয়া বর্তমানে লিভার জটিলতায় ভুগছেন। এ ছাড়া তার কিডনি, ফুসফুস, হৃদরোগ রয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ অক্সিজেন কমে যাওয়ায় খালেদা জিয়াকে দ্রুত সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। প্রায় আট ঘণ্টা পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে সকালে ফের কেবিনে আনা হয়। এবারই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন।
অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বোর্ডের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ম্যাডামের লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। সেজন্য তাকে দ্রুত বিদেশে উন্নত মাল্টি ডিসিপ্ল্যানারি সেন্টারে পাঠানো দরকার।
সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির শর্তাবলীতে বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাকে বিদেশে পাঠানো যাচ্ছে না।
৯ আগস্ট রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালে আছেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হয়। সেদিনই তিনি কারাবন্দি হন। পরে হাইকোর্টে এ সাজা বেড়ে ১০ বছর হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আরও সাত বছরের সাজা হয়। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। সেই থেকে তিনি গুলশানের বাড়িতে রয়েছেন।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবি
বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিতসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘সংকটজনক’ জানিয়ে দ্রুত তাকে বিদেশে পাঠানোর আবারও দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় বিএনপির এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আবার সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। চিকিৎসকরা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বহুমুখী সুযোগ-সুবিধাসংবলিত উন্নত হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিসংসার কারণে তাকে আটক রাখা হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে না পাঠালে যদি কিছু হয় তার জন্য বর্তমান সরকার দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।