বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:২৪ পিএম
জবি ক্যাম্পাসের সামনের একটি বাস কাউন্টার। প্রবা ফটো
পুরান ঢাকার সদরঘাট বাস স্ট্যান্ডে সাভার পরিবহনের কাউন্টারে ভাঙচুরের অভিযোগে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই কর্মকর্তার নাম আবদুল মালেক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থিত পরিবহনটির বাস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আব্দুল মালেকের একটি বাসের নামে আগের দিন পুলিশ সার্জেন্ট মামলা দেন। সেই বিষয়ে তারা মিটিং ডেকেছিল। মামলার জন্য রেগে এসে মিটিংয়ের সময় বাসের মালিক আব্দুল মালেক কাউন্টারের চেয়ারে লাথি দিতে শুরু করে। একসময় তিনি কাউন্টারের চেয়ারগুলো রাস্তায় ফেলে দেন এবং পরবর্তীতে কাউন্টারের লোকজনদের দিকে তেড়ে আসেন। মিটিংয়ে উপস্থিত সকলে মিলে তখন আব্দুল মালেককে থামান।
সাভার পরিবহনের সুপারভাইজার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, উনি (আব্দুল মালেক) আমাদের পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে আছেন। আগেরদিন রাস্তায় তার গাড়িতে পাঁচ হাজার টাকার মামলা দেওয়া হয়। উনার গাড়িকে কেন মামলা দেওয়া হয়েছে ওই জেদটা কাউন্টারে এসে দেখিয়েছেন। তিনি কাউন্টারের চেয়ার ভাঙ্গা শুরু করেন।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কাউন্টারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ ও মামলার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সুপারভাইজার মনির জানান, বাসের এমডি, পরিচালক এবং অভিযুক্তকে বসার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়া হবে।
আব্দুল মালেকের বাবার নামে সাভার পরিবহনে দুটি বাস রয়েছে। তিনি চাকরির পাশাপাশি বাস ব্যবসা করছেন।
তবে আব্দুল মালেক ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের গাড়ির মামলা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা (ফুটপাতে বসা কাউন্টারের লোকজন) জোর করে বাসের ড্রাইভারের কাছ থেকে টাকা রেখে দিয়েছে। যেহেতু মামলা দেওয়া হয়েছে তখন তো আর টাকা রাখতে পারে না। পরে আমি এটাই জানতে গিয়েছিলাম সেখানে। ভাঙচুরের কোনো ঘটনা হয়নি সেখানে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জহুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অপরাগত প্রকাশ করেন। বলেন, এবিষয়ে আমার বলার অধিকার নেই, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আজকের ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান অসুস্থ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।