প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ১৯:৪৭ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ২২:৩০ পিএম
অভিযানে জব্দ করা হয় দেশি ও বিদেশি মুদ্রা।
রাজধানীতে চারটি মানি এক্সচেঞ্জে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অর্থ পাচার প্রতিরোধের কেন্দ্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বুধবার (৩০ আগস্ট) দৈনিক বাংলা মোড় ও গুলশানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় দুই লাখ ডলার জব্দ ও হুন্ডি কারবারে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দৈনিক বাংলা মোড়ে অভিযান চালানো হয় আরএস ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত নিহন মানি এক্সচেঞ্জে। সেখানে ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার (১ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা), ৩০ হাজার কানাডিয়ান ডলারসহ (২৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা) আরও কিছু দেশের মুদ্রা ও টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সেখানে হুন্ডির অর্থ বহনকারী মিরাজুল ইসলামের কাছে ৩৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তিনি এসব টাকা নিহন মানি এক্সচেঞ্জের মালিক শহীদের কাছে জমা দিতে এসেছিলেন। এ সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। মানি এক্সচেঞ্জের আড়ালে এভাবে হুন্ডির কারবার চালিয়ে আসছিলেন শহীদ। সেই তথ্য পায় এনএসআই। এই কারবারের মূল হোতা গোপাল মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন।
সূত্র বলছে, মতিঝিল ও পল্টন এলাকার মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে বিদেশি মুদ্রা সরবরাহের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন মন্টু নামের এক ব্যক্তি। মন্টু চক্রের সদস্য ওমর ফারুক নিহন মানি এক্সচেঞ্জে অর্থ সরবরাহ দিতে এসে ডলারসহ আটক হন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মন্টুর বাসা থেকে প্রতিদিন মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে বিদেশি মুদ্রা সরবরাহ করা হয়। সারা দিনের লেনদেন শেষে সন্ধ্যায় মন্টুর নয়াপল্টনের বাসায় টাকা ও ডলার পৌঁছে দেওয়া হয়।
গুলশানে অভিযান
গুলশান-১-এর নাভানা টাওয়ারে সাব মানি এক্সচেঞ্জ ও লর্ডস মানি এক্সচেঞ্জ এবং গুলশান-২-এর ল্যান্ডমার্ক টাওয়ারে মেট্রো মানি এক্সচেঞ্জে অভিযান চালিয়েছে তিন গোয়েন্দা সংস্থা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লর্ডস মানি এক্সচেঞ্জে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডলার কেনাবেচা এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডলার বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। ব্যবসা পরিচালনার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সতর্ক করে দিয়েছেন এনএসআই, সিআইডি ও বিএফআইইউয়ের কর্মকর্তারা।
অভিযানে তিন গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে, নাভানা টাওয়ারের পেছনে শিহাব, মিরাজ, লিটন, তুষার, জিল্লুর, মিন্টু ও রাজিব নামের ব্যক্তিরা ব্যাগে করে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা করে। এ ছাড়া মেট্রো মানি এক্সচেঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১৫ থেকে ১৬ লাখ ছেঁড়া টাকা, অতিরিক্ত দামে ডলার বিক্রির অনিয়ম পেয়েছে এনএসআই, সিআইডি ও বিএফআইইউ।