বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৪০ পিএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৩ ১৯:০২ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে ওই কিশোরী। প্রবা ফটো
ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পরিবর্তনের শঙ্কায় ভুগছেন টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা সেই কিশোরী। বিষয়টি জানিয়ে সোমবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করেছে কিশোরী।
সংবাদ সম্মেলনে ওই কিশোরী বলে, ‘ধর্ষণ মামলার পর থেকে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানও হচ্ছে। সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। বড় মনির প্রভাব খাটিয়ে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন।’
গত ৫ এপ্রিল রাতে ওই কিশোরী বাদী হয়ে বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করে। ‘জোর করে একাধিকবার ধর্ষণে’ সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়। মামলায় বড় মনিরের স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়। বড় মনির টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের ভাই।
কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার প্রমাণ পেলেও ধর্ষণের আলামত পায়নি মেডিকেল বোর্ড। পরে গত ৯ জুলাই কিশোরীর গর্ভের সন্তানের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দেন চেম্বার আদালত। ২১ আগস্ট ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন আপিল বিভাগে দাখিল করতে বলা হয়েছিল। হাইকোর্টে ২১ আগস্ট দুই পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ৯ অক্টোবরের ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন দাখিল করতে নতুন করে আদেশ দেওয়া হয়। এ সময় পর্যন্ত বড় মনিরের জামিনও স্থগিত রাখেন আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কিশোরী বলে, ‘বড় মনির জেলে যাওয়ার পর অসুস্থ দেখিয়ে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দীর্ঘ দিন ডিএনএ স্যাম্পল দিতে গড়িমসি করার পর ২১ আগস্ট হাইকোর্টের আদেশে ডিএনএ স্যাম্পল দিতে বাধ্য হন তিনি। আমার ২ মাস বয়সের বাচ্চার ডিএনএ পরীক্ষার সময় সিআইডি কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হই।’
সে দাবি করে, ‘আমি যাতে ডিএনএ স্যাম্পল দিতে না যাই সেজন্য বড় মনিরের পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা ও একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ডিএনএ স্যাম্পল দিয়ে আসার পর থেকে কিছু লোক আমাকে ফলো করছে। আমার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। এই বিষয়ে ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবায় অভিযোগ দেই। সেখান থেকে পুলিশি সহায়তা দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানায় যোগাযোগ করানো হয়। পরদিন নিজের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে থানায় যাই। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সব কিছু জানাই। পিবিআইকেও জানাই।’
সে আরও বলে, ‘মামলা তুলে নিতে এক ছাত্রলীগ নেতা হুমকি দিয়েছে। বড় মনিরের স্ত্রী আমাকে ফোন করে নানা রকম হুমকি দিয়েছে। আমাকে চারপাশে থেকে লোকজন নজরবন্ধি করে রেখেছে। শিশু সন্তানকে নিয়ে কোথাও যেতে পারি না। স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত। আমি আমার বাচ্চার অধিকার চাই। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পরিবর্তন করার জন্য প্রভাবশালী মহলে যে পরিমাণ টাকা বড় মনির অফার করেছে, এতে আমি ডিএনএ পরীক্ষা ও মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছি।’