প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৫৬ পিএম
বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পুঁজি। আর্থিক পুঁজি ব্যবহার করলে কমে যায় কিন্তু সামাজিক পুঁজি ব্যবহার করলে কখনো কমে না বরং বাড়ে। তাই বাঙালির শ্রেষ্ঠ পুঁজি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু। তার কাজ-কর্ম, আন্দোলন-সংগ্রাম, মানুষের প্রতি মমতা, দেশত্ববোধ সেই পুঁজির অংশ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক উন্নতি ও অগ্রগতিতে সেই পুঁজিকে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের অডিটোরিয়ামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে’ প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জাফর উদ্দিন, ইক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান প্রমুখ।
‘বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় ড. আতিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সরকারি কর্মকর্তারা হবেন জনগণের সেবক। সেভাবেই কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করছিলেন। তার প্রতি বাঙালির ঋণের কোনও শেষ নেই। তিনি সাড়ে ৩ বছরে ২০০ এর বেশি আইন তৈরি করেছেন। প্রাদেশিক সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারে রূপান্তর করেছেন। কৃষিখাতকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের খাদ্যঘাটতি পূরণে কাজ করেছেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ২৪ শতাংশ বরাদ্দ রেখেছিলেন কৃষিতে। ২২ লাখ কৃষক পরিবারের পুনর্বাসন ও ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার করেন। তা ছাড়া ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ৪৩ হাজার সেচযন্ত্র বিতরণ করে ৩৩ শতাংশ সেচের আওতা বৃদ্ধি করেন। রাসায়নিক সার ব্যবহার বৃদ্ধি ৭০ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ উন্নত বীজের ব্যবহার বৃদ্ধি করেন।
বঙ্গবন্ধুর শিল্পায়ন সম্পর্কে ড. আতিউর বলেন, শিল্পায়ন রাষ্ট্রনির্ভরতা থেকে ব্যক্তিখাতের বিকাশ ঘটাতে ১৯৭৪-৭৫ সালের জাতীয় বাজেটে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের সীমা ২৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটিতে উন্নীত করেন। ১৩৩টি পরিত্যক্ত কারখানা ব্যক্তিখাতে হস্তান্তর করেন।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৯৩.০২ মার্কিন ডলার। মাত্র সাড়ে তিন বছরে সেটিকে ২৭২ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেন, অর্থাৎ তিন বছরে আয় বাড়ে ১৭৯ দশমিক ৭৩ মার্কিন ডলার। তিনি সংকোচনমূলক অর্থনীতির প্রবর্তন করেন। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়ে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেন। আর মূল্যস্ফীতি ৬২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।
ভিডিও বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাটা জীবন বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৪ এর নির্বাচন, ৬৬ এর ৬ দফা, ৭০ এর নির্বাচনের এই ধারাবাহিকতা পর্যায়ক্রমে দেশকে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে কীভাবে পুনর্গঠন করা যায় সে বিষয়ে মনোনিবেশ করেছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বিদেশি সহায়তা, নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেশকে সমৃদ্ধশালী করেছেন। তবে বিশ্বাসঘাতকদের বুলেট তার সোনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দেয়নি।
তপন কান্তি ঘোষ বলেন, বঙ্গবন্ধু বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, আন্দোলন করেছেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরও অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। পুঁজিবাদ থেকে বের হয়ে সাম্যবাদী অর্থনীতি তৈরি করেছেন।
ড. জাফর উদ্দিন বলেন, বিশ্বের অনেক বিপ্লবীনেতা গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে থাকলেও বঙ্গবন্ধু কখনো গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে থাকেননি। জীবনের বিশাল একটা সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২-৭৪ সালের মধ্যে বিশ্বের ৮ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তা ছাড়া ১১৬টি দেশ ও ২৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হয়।