প্রজ্ঞাপন স্থগিত
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩ ২০:৪৪ পিএম
মোটরযানের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আড়াই মাস পরই স্থগিত করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ প্রকাশ করেছে বিভাগটি। জানা গেছে, পরিবহন মালিকদের চাপের কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রজ্ঞাপন স্থগিতের বিষয়ে জানানো হয়, মোটরযানের স্ক্র্যাপ নীতিমালার আওতায় মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান প্রভৃতি মালবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রে ২৫ বছর ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করা হয়। গত ১৭ মে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার নতুন আদেশ দ্বারা এটি স্থগিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জানা যায়, আয়ুষ্কাল ফুরানো লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি সড়কে চললে দুর্ঘটনা বাড়ে, পরিবেশনও দূষণ হয়। তাই পুরোনো গাড়ি যাতে ব্যবহার করা না যায়, সেজন্য টুকরো টুকরো করে ফেলার বিধান ছিল আইনে। কিন্তু অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারিত না থাকায় লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি ধ্বংস করা যাচ্ছিল না। গত ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৩৬ ধারায় মোটরযানের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণের কথা বলা ছিল।
কিন্তু আয়ুষ্কাল নির্ধারণের পর এর মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানোর দাবি করেন বাস ও ট্রাক মালিকরা। তারা বাস ও মিনিবাসের আয়ুষ্কাল ২৫ বছর ও ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান প্রভৃতি মালবাহী মোটরযানের আয়ুষ্কাল ৩০ বছর করার দাবি জানান। এর পরপরই এ আদেশ এলো।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসেবে বর্তমানে সড়কে চলাচল করা ৪০.৬৬ শতাংশ বাস ধ্বংসযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে স্ক্র্যাপযোগ্য বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৭৪। মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬০৩টি পণ্যবাহী গাড়ির মধ্যে স্ক্র্যাপযোগ্য ৩০ হাজার ৬২৩টি, যা ১৫.৭৩ শতাংশ।
কেন হঠাৎ প্রজ্ঞাপন স্থগিত করা হলো- এই প্রশ্নে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার শনিবার (৫ আগস্ট) প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মালিকদের আপত্তির কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছে। তারা মন্ত্রী ও সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তারা বলেছেন, এই প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে এতসংখ্যক মোটরযান সরিয়ে দিলে পরিবহন সংকট দেখা দিতে পারে। তাই তারা সময় চেয়েছে। এ ব্যাপারে যে কমিটি আছে তারা সেটি দেখবে।
এ বিষয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তার জন্য লক্কড়ঝক্কড় বাস একটি নির্ধারিত সময়ের পর রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া দরকার। কিন্তু সরকার কেন এই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করল, তা বোধগম্য নয়। এটা হতে পারে পরিবহন মালিকদের চাপের কারণে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এর আগেও অনেকবার এ রকম বড় সিদ্ধান্ত নিতে এ রকম ঘটনা ঘটেছে।’