প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১৬:২৩ পিএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১৮:২৩ পিএম
সাইফুল ইসলাম হত্যার সাত আসামি। প্রবা ফটো
পুলিশকে মাদক কারবারের তথ্য দেওয়ায় জেল থেকে বেরিয়ে পুলিশের সোর্স সাইফুল ইসলামকে মাদক কারবারিরা হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রাজন ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সাতজনকে সোমবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, রিকশা গ্যারেজ মালিক জানে আলম, কাঠ কাটা শ্রমিক সুমন ওরফে গর্দা সুমন, মুদ্রাক্ষরিক লিটন হোসেন, জাহাজ ভাঙার শ্রমিক মো. দিপু ও মো. সজিব, রঙমিস্ত্রি সরোয়ার আকন্দ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সূচালো লোহার রড, একটি ভাঙা ক্রিকেট ব্যাট, একটি ব্যাটন ও ছয়টি মোবাইল ফোন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মাদক কারবার করতেন। গত ২৮ জুন তিনি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন। তার ধারণা, গ্রেপ্তারের পেছনে ব্যবসায়ী সাইফুলের হাত রয়েছে। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি সাইফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় রাজনের নেতৃত্বে জানে আলম, সুমন, লিটন, দিপু, সরোয়ার ও সজীবসহ ১০-১২ জন সাইফুলকে খেজুরবাগ স্কুল রোড এলাকায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এ ছাড়া রাজন পাশের একটি দোকান থেকে চামচ এনে সাইফুলের চোখ উপড়ে ফেলে।
সাইফুলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে রাজন ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাবের মিডিয়া উইং পরিচালক বলেন, সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ সাতপাখি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাস করতেন। তিনি সাতপাখি রোডে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।