প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৩ ১৯:১৮ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৩ ১৯:৪৮ পিএম
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০৮ টাকা পরিশোধ করেছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করা হয়। কর অঞ্চল-১৪-এর উপ-কর কমিশনার বরাবর এই টাকা জমা দেন তিনি।
এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আরোপিত দানকর বৈধ ঘোষণা করা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। রবিবার (২৩ জুলাই) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। সেই আদেশের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই দানকর জমা দিয়েছেন।
২২ জুন ১৫ কোটি টাকা কর দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। গত ৩১ মে ১৫ কোটি টাকা কর দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদের করা তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এর ফলে ইউনূসের এনবিআরকে কর বাবদ আরও ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর আগে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় ১৫ কোটির মধ্যে তিনি ৩ কোটি টাকা জমা দিয়েছিলেন।
এর আগে ২৩ মে ১৫ কোটি টাকা কর দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. ইউনূসের করা তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলার শুনানি শেষ হয়। একই সঙ্গে রায়ের জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালের দানকর আইন অনুযায়ী, ২০১১-১২ করবর্ষে মোট ৬১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা দানের বিপরীতে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা কর দাবি করে নোটিস পাঠায় এনবিআর। একইভাবে ২০১২-১৩ করবর্ষে ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা দানের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দানকর দাবি করে আরেকটি নোটিস দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া ২০১৩-১৪ করবর্ষে ৭ কোটি ৬৫ হাজার টাকা দানের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা কর দাবি করে নোটিস দেওয়া হয়। দানের বিপরীতে কর দাবি করে এনবিআরের এসব নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন ড. ইউনূস।
তার দাবি, আইন অনুযায়ী দানের বিপরীতে এনবিআর এই কর দাবি করতে পারে না। তার এই মামলার শুনানি ২০১৪ সালে খারিজ করে রায় দেন কর আপিল ট্রাইব্যুনাল। এরপর হাইকোর্টে তিনি পৃথক তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা করেন।