প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৯ পিএম
রাজধানীর শাহজাহানপুরে যুবলীগ কর্মী শেখ অলিউল্লাহ রুবেলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২২ জুলাই) মধ্যরাতে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন আদনান আসিফ ও শাকিল। র্যাবের দাবি, তারা দুইজন রুবেল হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।
রবিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। এ সময় রুবেল হত্যার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
র্যাব অধিনায়ক বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শাহজাহানপুর থানাধীন মালিবাগ বাজার রোড বিভাবরী বাড়ির সামনে রুবেলকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। আর হত্যায় সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা জানিয়ে তিনি বলেন, রুবেল ইন্টারনেট ও ডিমের পাইকারি ব্যবসা করতেন। সম্প্রতি এলাকায় পানির ব্যবসায় সম্পৃক্ত হতে চেয়েছিলেন। মূলত স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শাহজালাল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এর জেরে হত্যাকাণ্ডের এক দিন আগে মালিবাগ পিডব্লিউডি সরকারি কলোনির মাঠে শাহজালালের নির্দেশে হাবিব, সানি, আলিফ, শাকিল, আসিফ এবং আরও কয়েকজন মিলে রুবেলকে উচিৎ শিক্ষা দিতে পরিকল্পনা করেন।
এরপর থেকে রুবেলের গতিবিধি নজরদারি শুরু করেন তারা। ঘটনার দিন রাতে রুবেলের বাসার সামনের গলিতে অবস্থান নেন আদনান আসিফ এবং শাকিল। সেখান থেকে একটু সামনে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন হাবিব, সানি, আলিফসহ অন্যান্যরা। রুবেল গলির দিকে এলে অভিযুক্তরা তাকে আক্রমণের চেষ্টা চালালে তিনি দৌড়াতে শুরু করেন। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করছিলেন হামলাকারীরা।
র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, কিছুদূর দৌড়ে মালিবাগ বাজার রোড বিভাবরী বাড়ির সামনে আসলে রুবেলকে ধরে ফেলেন হাবিব ও তার সহযোগীরা। সেখানেই তাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন হামলাকারীরা।
এ অবস্থায় রক্তাক্ত শরীর নিয়েই মালিবাগ সরলতা ভবনের সামনে আসলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তখন হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাকরাইল ইসলামী হাসপাতালে ও পরে পঙ্গু হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবেল মারা যান।