কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) ও জবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৩ ১০:৩৩ এএম
কেরানীগঞ্জের তেলঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি প্রায় ১২ ঘণ্টা পর সোমবার উদ্ধার করে শ্যামপুরের ফায়ার সার্ভিস ঘাটের সামনে নদীর পাড়ে নিয়ে রাখা হয়। পরে ওয়াটার বাসটির ভেতরে তল্লাসি চালান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ছবি : ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ
ঢাকার সদরঘাটের কাছাকাছি বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি প্রায় ১১ ঘণ্টা পর গতকাল সোমবার সকাল আটটার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর সকালেই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়। এ ছাড়া এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত তিনজনের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতরা হলেনÑ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার চুনকুটিয়া চৌধুরী পাড়া এলাকার বাবুর ছেলে আলিফ (১৪), দোহার উপজেলার জয়পাড়া এলাকার সবুজের ছেলে ফাহিম (২০) ও রংপুর জেলার নুরুল আক্তার মিতু (৫০)।
গতকাল ভোর ছয়টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পরে সকাল আটটার দিকে জাহাজটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রুস্তম’।
এর আগে রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে সদরঘাট শ্যামবাজার থেকে কেরানীগঞ্জের তৈলঘাটে যাওয়ার পথে বুড়িগঙ্গা নদীর অংশে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় অন্তত ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ওয়াটার বাসটি।
নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান মারুফ গতকাল বলেন, ‘ওয়াটার বাসটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। বেশিরভাগই সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। এ ঘটনায় ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর তৈলঘাটে বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি উদ্ধারে ভোরে পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে এসে পৌঁছায় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম। রুস্তম পোস্তগোলা ব্রিজ পার হতে না পারায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটিকে পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে টেনে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই উদ্ধার কাজ শুরু করে রুস্তম। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে ওয়াটার বাসটি উদ্ধারের পর গতকালই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, ডুবে যাওয়া ওয়াটার বাসটি সোমবার সকালে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমের সাহায্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর সকাল ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
‘নিখোঁজ’ সাইমুনের অপেক্ষায় স্বজনরা
নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা ও ইসলামপুরের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী ২২ বছর বয়সি সাইমুনের এখনও কোনো খোঁজ পায়নি তার পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে সাইমুনের নিখোঁজের বিষয়ে দাবি করা হলেও এ নিয়ে নৌ-থানায় কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশ।
নিখোঁজ সাইমুনের মা ফারজানা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে এখনও খুঁজে পাইনি। সে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। আমাদের বলা হয়েছিল উদ্ধার অভিযান চালু থাকবে। এখন শুনি উদ্ধার কাজ শেষ ঘোষণা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের মুখটা একবার দেখতে চাই।’
সদরঘাট নৌ-থানার ওসি শফিকুর রহমান খান বলেন, ‘নিখোঁজের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। দীর্ঘক্ষণ অভিযান চালানো হয়েছে। রাতের পর আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমাদের কাছে নিখোঁজের বিষয়ে স্বজনদের নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও আসেনি। তাই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’
বাল্কহেডের ছয় কর্মচারী আটক
ওয়াটার বাসডুবির ঘটনায় বালুবাহী বাল্কহেডের ছয় কর্মচারীকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। বাল্কহেডটিও জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি শফিকুর রহমান খান বলেন, ওয়াটার বাসটিকে ধাক্কা দেওয়া বাল্কহেডের ছয় কর্মচারীকে রবিবার রাতেই আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তারা হলেন, বাল্কহেডের মাস্টার শরিফুল ইসলাম (৩৫), চালক আনছার আলী (৩৭), সুকানি সজীব সরদার (২৭), লস্কর সিয়াম বেপারী (২০), সফিউল গাজী (২২) ও বাবুর্চি মাসুদ মুন্সি (৪৮)।