বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩ ১৩:০৩ পিএম
জাতীয় শহীদ মিনারে একাত্তরের স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বুলবুল মহলানবীশের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। প্রবা ফটো
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বুলবুল মহলানবীশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সোমবার (১৭ জুলাই) বেলা ১১টায় তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আনা হয়।
সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ শহীদ মিনারে রাখা হয়। এটির আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
শহীদ মিনারে তার মরদেহে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয় বাংলাদেশ সংগীত সমন্বয় পরিষদ, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা, বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সমিতি, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন, ছায়ানট, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম-- মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ কেন্দ্রীয় কমিটি, শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেনসহ বহু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে বুলবুলের সহকর্মী তিমির নন্দী বলেন, ‘তার বিদেহি আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমরা একসাথে কাজ করেছি। আমাদের, দেশের মানুষের অনেক চাওয়া ছিল তার কাছে, কিন্তু তিনি অনেক আগেই আমাদের থেকে চলে গেলেন। তার এই চলে যাওয়ায় আমরা একজন অভিভাবক হারালাম, তেমনি দেশ একজন রত্ন হারাল। আমরা দেখি গুণীজন, মুক্তিযোদ্ধারা মারা যাওয়ার পর সম্মাননা পায়। আমরা সরকারের কাছে আশা করছি বর্তমানে যারা জীবিত রয়েছে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়, যাতে বেঁচে থাকতে তারা তাদের মূল্যায়ন দেখে, উপভোগ করে যেতে পারেন।’
বরেণ্য সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, ‘বুলবুলের কথা ছিল না এত আগে চলে যাওয়ার। আমরা বিভিন্ন সময় বলতাম তুমি সুস্থ হয়ে যাবে, তিনি মনেপ্রাণে ভালোবাসতো বাংলাদেশকে, ভালোবাসতো মুক্তিযুদ্ধকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না বুলবুলকে নিয়ে আমার কথা বলতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, যতদিন মুক্তিযুদ্ধ থাকবে ততদিন বুলবুল থাকবে। তিনি তার জীবদ্দশায় অসাধারণ শক্তিমান যোদ্ধার মতো কাজ করে গেছেন বলেও জানান তিনি।
আবেদ খান বলেন, ‘আমাদেরকে শূন্য করে চলে গেছেন তিনি। কিন্তু তিনি যতটুকু আমাদের জন্য রেখে গেলেন তা কি আমরা বরণ করে নিতে পারব। আমি মনে করি বুলবুল চলে গেছেন কিন্তু তিনি আমাদের মধ্যে, আমাদের স্মৃতিতে থাকবেন।’