প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৩ ১৮:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৩ ১৯:১৯ পিএম
সুইডেনে কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ঢাকায় সম্মিলিত ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : সংগৃহীত
সুইডেনে পবিত্র কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল থেকে তার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে ৪৬টি ইসলামী দলের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী দল।
শুক্রবার (৭ জুলাই) বাদ জুমা রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এমন কথা বলেন সমন্বয়ক মাওলানা আবু তাহের জেহাদি।
এমনকি সুইডেন ক্ষমা না চাইলে অচিরেই তাদের দূতাবাস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আবু তাহের বলেন, ’সুইডেনে কুরআন পোড়ানো ও অবমাননা করে চরম বেয়াদবি করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। জীবন বাজি রেখে হলেও কুরআনের মর্যাদা রক্ষা করতে আমরা সদা প্রস্তুত রয়েছি। সুইডেন যদি এ ঘটনায় ক্ষমা না চায়, তাহলে অচিরেই সুইডেন দূতাবাস ঘেরাও করা হবে। বিশ্বের দেশে দেশে যেখানেই কুরআনের বিরুদ্ধে কেউ কটূক্তি করবে, তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
বিক্ষোভ সমাবেশের আগে একটি মিছিল হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে কালভার্ট রোডে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন মাজলিসে সাদরাতের সদস্য আল্লামা আবু তাহের জিহাদী।
সমাবেশে ড. মুফতি খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, ’সুইডেনের স্বঘোষিত নাস্তিক সালওয়ানকে পবিত্র কুরআনে আগুন দেওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইডেন সরকারকে কঠোর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।’
২৮ জুন সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে পবিত্র কুরআন পোড়ানো হয়। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তার প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে।
সমাবেশ শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন ড. আবু ইউসুফ খান।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী, সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের সমন্বয়ক মুফতি ড. খলিলুর রহমান মাদানী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, আহকামে শরিয়া হেফাজত কমিটির সহসভাপতি ড. মুফতি আবুল ইউছুফ খান, মাওলানা আজীজুর রহমান আজীজ, খেলাফতে রাব্বানীর মহাসচিব মাওলানা লুৎফর রহমান, ছারসিনার পীর শাহ আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, কওমি মুভমেন্টের মহাসচিব মাওলানা হাফেজ শফিকুল ইসলাম নরসিংদী, মাওলানা ড. আব্দুল মান্নান, মাওলানা আব্দুস সবুর মাতুব্বর প্রমুখ নেতা।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সম্মিলিত ইসলামি দলসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দল হলো, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদ, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ, জাতীয় ইমাম সমিতি, জাতীয় খতিব পরিষদ, আইম্মা পরিষদ, খেলাফতে রাব্বানী, নাস্তিক মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটি, ইসলামী জনতা বাংলাদেশ, ইসলামী সংগ্রাম পরিষদ, আহকামে শরিয়াহ হেফাজত কমিটি, জাতীয় সিরাত সা. কমিটি, কুরআন- সুন্নাহ পরিষদ, বাংলাদেশ কুরআন গবেষণা কেন্দ্র, খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ, তালিমুল কুরআন সংস্থা, উলামায়ে দেওবন্দ পরিষদ, প্রগতিশীল ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ ভাসানী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ইমাম সমিতি।