প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৩ ২০:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তথ্য গোপন ও ‘ভুল চিকিৎসায়’ নবজাতকসহ প্রসূতি মাহবুবা রহমান আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল এবং ডা. সংযুক্তা সাহার নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন। একইসঙ্গে স্ত্রী ও নবজাতকের মৃত্যুতে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রেসিডেন্ট এবং রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক আবেদনে এসব দাবির জানান ইয়াকুব আলী সুমন।
আবেদনে তিনি জানান, তার প্রয়াত স্ত্রী মাহবুবা রহমান আঁখি সন্তান গর্ভধারণের পর অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি বিষয়ক ফেসবুক ভিডিও দেখে তার কাছে কয়েক দফা চিকিৎসাসেবা নেন এবং পরে ডেলিভারি করাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। গত ৯ জুন রাতে তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা হলে তিনি প্রথমে সংযুক্তা সাহার অ্যাসিস্টেন্ট জমিরকে ফোন করেন। এ সময় সংযুক্তা সাহা চেম্বারে আছেন বলে জমির ও সংযুক্তা সাহার একজন অ্যাসিস্টেন্ট ডাক্তার তাকে নিশ্চিত করেন। পরে তিনি আঁখির অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন।
আবেদনে আঁখির স্বামী সুমন আরও বলেন, ‘অ্যাপয়েন্টমেন্টের পর আমরা রাত ১২টা ২৫ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে পৌঁছাই। এ সময় ডা. সংযুক্তা সাহার চেম্বারে গেলে কিছু স্টাফ সংযুক্তা সাহা ওপরে লেবার ওয়ার্ডে আছেন বলে আমাদের লেবার ওয়ার্ডে নিয়ে যাযন। সংযুক্তা সাহার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে লেবার ওয়ার্ডে ডা. সংযুক্তা সাহার একজন অ্যাসিস্টেন্ট চিকিৎসক আমার স্ত্রীকে ভেতরে নিয়ে যান এবং আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আমাকে নিচে এডমিশন ফি দিতে বলেন। আমি নিচে গিয়ে ডা. সংযুক্তা সাহার নামে এডমিশন নিই। মানি রিসিট এনে ডা. সংযুক্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বলা হয় আপনার স্ত্রীর ডেলিভারি হচ্ছে, সংযুক্তা সাহা সেখানে ব্যস্ত আছেন পরে কথা বলবে। আমার পারমিশন না নিয়েই ডা. সংযুক্তা সাহার টিমের সদস্য ডা. মুনা সাহা, ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা আমার স্ত্রীকে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করায় এবং সাইড কাটতে গিয়ে মুত্রনালি ও মলদ্বারসহ অন্যান্য অর্গান কেটে ফেললে মারত্মক রক্তক্ষরণ হয়, যা বন্ধ করতে তারা ব্যর্থ হয়।’
সুমন বলেন, ‘আমার নুমতি ছাড়াই অজ্ঞান অবস্থায় আঁখিকে ওটিতে নিয়ে সিজার করে বাচ্চা বের করে। পরবর্তী সময়ে আমি ডা. মাকসুদা আক্তার মিলি, ডা. এহসানকেও ওটিতে দেখতে পাই। ডা. সংযুক্তা সাহাকে খোঁজাখুঁজি করলে তারা সকালে আমাকে জানায় সংযুক্তা সাহা নেই। শাহজাদী মুস্তাশিদা সুলতানা স্বীকার করেন যে তিনি সংযুক্তা সাহার নির্দেশে এ কাজ করেছেন। এরপর রোগীকে জরুরিভাবে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যেতে আমাকে বলে, কিন্তু আমি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে সিসিইউতে ভর্তি করাই।’
তিনি আরও বলেন, ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে জানানো হয় আমার সন্তান মারা গেছে এবং তারা মর্গে রেখেছে। এরপর গত ১৮ জুন দুপুরে আমার স্ত্রী মাহবুবা রহমানও মারা যান।
স্ত্রী ও নবজাতককে হত্যা করা হয়েছে- এমন দাবি করে সুমন দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। একইসঙ্গে সেন্ট্রাল হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন এবং ডা. সংযুক্তা সাহার রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি জানান।