প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:২০ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:৪৪ পিএম
বক্তব্য রাখছেন সাবের হোসেন চৌধুরী।
‘জলবায়ু সুসামঞ্জস্য কৃষি–বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল কৃষির কার্যকারিতা মূল্যায়ন’ শিরোনামে রাজধানীতে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) একটি গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফলের সুপারিশে জলবায়ু সামঞ্জস্য কৃষিশস্যের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে জনবল বৃদ্ধি করে সরকারের বার্ষিক বা নিয়মিত ভিত্তিতে দুর্যোগ-সহনশীল শস্যের সক্ষমতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।
উপকূল অঞ্চলে প্রান্তিক চাষিদের লাভবান করতে সরকারের উচিত বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে চাষিদের প্রণোদনা প্রদানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে—চরাঞ্চলের প্রান্তিক চাষিদের পণ্য পরিবহনসুবিধা ও বাজার সংযোগ তৈরি করে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষির জন্য সরকারের উচিত পৃথক নীতিমালা গ্রহণ করা।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের এ যৌথ গবেষণায় প্রান্তিক মানুষের জীবিকায়নে জলবায়ু সুসামঞ্জস্য কৃষির মাধ্যমে কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্য সমাধান খোঁজা হয়। জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বাংলাদেশের চর, উপকূল,বন্যাপ্রবণ এবং পাহাড়ি অঞ্চলের সাতটি জেলা—গাইবান্ধা, জামালপুর, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বান্দরবান ও পটুয়াখালীতে এ গবেষণা পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. জাকারিয়া।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাসে সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও প্রতিনিধি, বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি , গবেষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আতিকুল ইসলাম।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সংসদ সদস্য মো. সাবের হোসেন চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ।
তিনি বলেন, ‘অঞ্চলভিত্তিক কৃষি ও শস্য আবাদ একটা ভালো সমাধান হতে পারে। তবে আমাদের উচিত জলবায়ু সুসামঞ্জস্য কৃষির চেয়েও জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে আরও মনোযোগী হওয়া ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বার্টলেট এবং সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর (অপারেশন্স অ্যান্ড পোগ্রাম কোয়ালিটি) চন্দন জেড গোমেজ।
তিনি উল্লেখ করেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনপদের মানুষের জন্য কাজ করে, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে তাদের কৃষিনির্ভর জীবিকায়ন হুমকির মুখে। কৃষিনির্ভর এসব মানুষের জীবিকায়ন কীভাবে উন্নত করা যায় সে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এ গবেষণার মাধ্যমে।
প্রবা/জিজি /এমআই