বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৩ ০০:৪৯ এএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ১৩:০৮ পিএম
রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় অবরোধ করে রেখছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সংগৃহীত ফটো
রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় অবরোধ করে রেখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগসহ বিভিন্ন দাবিতে বুধবার (২১ জুন) তারা এ অবরোধ করেন।
বিকাল ৩টার কাছাকাছি থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে এ অবরোধ চলে। এতে নিউমার্কেট-মিরপুর রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের লাঠিচার্জের কারণে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছাড়তে বাধ্য হন। এ ঘটনায় ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে দুপুর ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। আন্দোলনরত আরও কিছু শিক্ষার্থী ইডেন কলেজের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের ছয়টি দাবি মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু একটি দাবি মানেনি কলেজ প্রশাসন। তাই এক দফা দাবিতে ইডেন কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে এসে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
গত রাত পর্যন্ত আটক ১১ জনের মধ্যে ছয়জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন সাদেকুল ইসলাম সাদিক, মোজাম্মেল হক, শাহিনুর সুমি, সুমাইয়া শাইনা, জয় দেবনাথ ও ইসমাইল হোসেন সম্রাট।
এক দফা দাবির বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, সাত কলেজের যেসব শিক্ষার্থী পরবর্তী বর্ষের ক্লাস, ইনকোর্স ও টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর জানতে পেরেছেন তারা উত্তীর্ণ হননি। তাদের মানোন্নয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী বর্ষের পরীক্ষা দিতে হবে।
এদিকে দীর্ঘ সময় অবরোধের ফলে আজিমপুর থেকে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
মাহমুদ হাসান নামে এক পথচারী বলেন, ‘এভাবে জনগণকে ভোগান্তিতে রেখে কীভাবে তারা (শিক্ষার্থী) তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলে! দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমাধান হতো, যে পরিমাণ জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ খুবই অস্বস্তিবোধ করেছে।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা এর আগেও এখানে বসেছে তাদের দাবি নিয়ে। আজকে (গতকাল) শিক্ষকদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। তার পরও তারা আবার একটি দাবি নিয়ে নীলক্ষেতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় দুপুর থেকে অবরোধ করে রেখেছে। বারবার তাদের সরে যেতে বলা হলেও সরেনি। পাশাপাশি কিছু অছাত্রও তাদের সঙ্গে এখানে অবস্থান নিয়েছিল। যদিও সতর্কতামূলক অবস্থানের জন্য তারা কোনো সমস্যা তৈরি করতে পারেনি।