× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বড় কাটরা ধ্বংসের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দায়ী করল বিআইপি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৩৭ পিএম

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৫৫ পিএম

 বড় কাটরা

বড় কাটরা

১৬৪৬ সালে মুঘল আমলে পুরান ঢাকায় নির্মিত বড় কাটরা চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। এর পেছনে সরকারি কর্মকর্তাদের অবহেলা ও উদাসীনতাই দায়ী বলে মনে করে নগর পরিকল্পনাবিদদের এই সংগঠন।

বড় কাটরা ঢাকার একটি প্রাচীনতম ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। মধ্য এশিয়ার ক্যারাভানসরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী প্যাটার্ন অনুসরণ করে স্থাপিত এই নিদর্শনটি ঢাকার সরাইখানা নামে পরিচিত।

মুঘল কারুকাজ এবং এশিয়ান ক্যারাভানসরাইয়ের নকশায় নির্মিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি প্রায় ৪০০ বছর ধরে বাংলাদেশের স্থাপত্য, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে।

বিআইপি বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বড় কাটরার বিশাল অংশজুড়ে একটি মাদ্রাসা, মালের আড়ত, ঝালাই কারখানাসহ নানা দোকান রয়েছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী বিভিন্ন সময়ে বড় কাটরা ভেঙে ফেলেছেন। তাদের যুক্তি, ঝুঁকিপূর্ণ বড় কাটরার জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমতি রয়েছে।

বিআইপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী বড় কাটরা সরকারের অধীনে থাকার কথা থাকলেও সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারির অভাবে স্থাপনাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বিআইপি বলছে, বড় কাটরা ভেঙে ফেলার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ২০০১ এবং ২০১৬ সালে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে অবগত ছিল না।

বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৮৯ সালের ২১ ডিসেম্বর বড় কাটরাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি নিদর্শন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। অন্যদিকে রাজউক ২০০৯, ২০১৭ ও ২০২০২ সালে বড় কাটরাকে ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। রাজউক কর্তৃক প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (২০১০-২০১৫ এবং ২০২২-২০৩৫) ভবনটিকে ঐতিহ্যবাহী ইমারত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিআইপি বলছে, ক্ষেত্রবিশেষে দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী ইমারত হিসেবে তালিকাভুক্ত স্থাপনা বা এলাকাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এমনকি প্রত্নতত্ত্ব আইন বা ইমারত বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগও সেখানে হচ্ছে না। এসব ঘটনা ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংরক্ষণে সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা, সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতার অভাবকে নির্দেশ করে বলে মনে করে বিআইপি।

১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের।

পাশাপাশি ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা ২০০৮ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুসারে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বা এলাকার সীমানার মধ্যে ও সীমানার বাইরের দিকে ৯ মিটারের মাঝে রাজউকের অনুমতি ব্যতীত কোনো নির্মাণ, উন্নয়ন ও স্থাপনা অপসারণ বা ধ্বংস করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ছাড়া সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯-এর তৃতীয় তফসিলের ২৬.৭ অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে স্থানীয় সরকার।

বিআইপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুরান ঢাকার স্থাপনাগুলো শুধু রাজধানী নয়, বরং পুরো দেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। ঢাকার হাজার বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাস, জাতিসত্তা বিকাশের সুদীর্ঘ পথ-পরিক্রমা উদঘাটনে স্থাপতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো অনন্য ভূমিকা পালন করছে। সুনির্দিষ্ট বিধিমালা এবং কমিটি থাকা সত্ত্বেও বড় কাটরা, রূপলাল হাউজসহ অন্য হেরিটেজ স্থাপনাগুলো একে একে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে। ঐতিহ্য বিলীন করে উন্নয়নের সমারোহে ঢাকার গৌরবময় ইতিহাস ধ্বংস করে ফেলার জোগাড় হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বিআইপি মনে করে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ অনুযায়ী সরকার বড় কাটরাসহ পুরান ঢাকার সব পুরাকীর্তি সীমানা নির্ধারণ, জমি অধিগ্রহণ ও সঠিক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। স্থাপনাগুলোর আগের স্থাপত্যশৈলী পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বিআইপি দাবি জানিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে মনিটরিং সেল স্থাপন ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

যেসব কর্মকর্তা বা কর্মচারী ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি ভাঙার অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত তাদের জবাবদিহিতা এবং শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে বিআইপি।

প্রবা/টিকে/ এসআর


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা