ডিবি হেফাজতে আলালের মৃত্যু
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৩ ২২:০২ পিএম
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩ ২২:২৩ পিএম
আলাল উদ্দিন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাসপাতালে মারা যাওয়া আলাল উদ্দিনের মরদেহ বুঝে পেয়েছে পরিবার। মৃত্যুর ৪৪ ঘণ্টা পর রবিবার (১৮ জুন) বিকালে রাজধানীর তুরাগে পরিবারের কাছে তার মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয়। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ করা হয়। এতে আলালের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে ফরেনসিক বিভাগ। তারা আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে আঘাতের কারণ জানার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আলালের পরিবার দাবি করেছে, তাকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নিয়ে যায় ডিবি। তাদের নির্যাতনে আলালের মৃত্যু হয়েছে। তবে ডিবির পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর তুরাগে বাউনিয়ায় আদর্শপাড়ার একটি বাড়িতে কেয়ারটেকার ছিলেন আলাল। বাড়িটির দোতলার ভাড়াটিয়া ফাতেমা আক্তার ৫ জুন রাতে খুন হন। নিহতের ভাই মুরাদ মিয়া ফাতেমার দ্বিতীয় স্বামী সাইফুল ইসলাম রানাকে আসামি করে তুরাগ থানায় মামলা করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জুন আলালকে ধরে নিয়ে যায় ডিবির উত্তরা বিভাগ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। রবিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষ হয়। মর্গ থেকে মরদেহ বুঝে নেন আলালের ভাই আব্দুল মান্নান দেওয়ান। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তিনি খাতায় সই করে একটি ফ্রিজিং গাড়িতে মরদেহ নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. তৌহিদা বেগম মরদেহ ময়নাতদন্ত করেন। জানতে চাইলে এ বিষয়ে চিকিৎসকদের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আলালের পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তারা কিছু কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আঘাতের কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।
তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বলেন, ’ফাতেমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্তভার পায় ডিবি। আলালকে ডিবির গ্রেপ্তারের বিষয়ে আমাদের জানা নেই।’
এ বিষয়ে জানতে পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিবির উপকমিশনার ও মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনারকে কল করা হলে তারা সাড়া দেননি।
আলালের বড় ভাই জহির দেওয়ান জানান, আদর্শপাড়ার ওই বাড়িতে আলাল ১৫-১৬ বছর ধরে চাকরি করছিলেন। তাকে ডিবি ধরে নেওয়ার সময় সুস্থ ছিলেন। পরে যোগাযোগ করা হলে ডিবি জানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে আলালকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
জহিরের দাবি, বাম পায়ে ক্ষতের কথা উল্লেখ করে আলালকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ১০ জুন ডিবি ভর্তি করলেও তাদের জানানো হয়নি। ১৬ জুন আলাল মারা যাওয়ার পর হৃদরোগ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার বেলাল হোসেন মৃত্যুর খবর ফোনে জানিয়েছিলেন।
আসকের উদ্বেগ
রবিবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বিবৃতিতে বলা হয়, আলালকে কবে ডিবি ধরে নিয়ে গেছে, তিনি কত দিন ডিবি হেফাজতে ছিলেন, কেন তাকে পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করাতে হলো, কোন পরিস্থিতির কারণে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিতে হলো—এসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আসকের মতে, বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের আইনের আশ্রয় ও বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। উচ্চ আদালতের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডসংক্রান্ত রায়ে গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবার ও স্বজনদের জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হচ্ছে সেবাদানকারী সংস্থা। এ সংস্থাগুলো আইন ও নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও প্রায়ই সংস্থাগুলোর সদস্যদের অপেশাদারত্ব এবং আইনবহির্ভূত আচরণের ফলে সংস্থাগুলোর কাঠামো ও প্রয়োগ নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠছে। আলাল উদ্দিনের পরিবার যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে, তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।