রাশেদুল হাসান
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৩ ০৮:৫০ এএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩ ১১:২৫ এএম
গত ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে গেণ্ডা রিয়া অংশে তিনটি পৃথক রেললাইন নির্মাণকাজের জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সব ট্রেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। বলা হয়েছিল, তিন মাস পর পুনরায় চালু করা হবে। এরপর ছয় মাসেও সেবাটি চালু করেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে এই রুটে যাতায়াতকারীরা। ট্রেন সেবা চালু করা নিয়ে দুই রকম কথা বলছে বাংলাদেশ রেলওয়ের দুই পক্ষ। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজের জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল গত ৪ ডিসেম্বর। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, কাজ শেষ। এখন অপারেশন বিভাগ যেকোনো সময় চালু করতে পারে এ সেবা। আর অপারেশন বিভাগ বলছে, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচলের জন্য এখনও প্রস্তুত করেনি রেলপথ।
গত ৩০ মে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক মো. আফজাল হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা যে কাজের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ করেছিলাম তা শেষ হয়েছে। এখন অপারেশন বিভাগ চাইলে যেকোনো সময় ট্রেন চালু করতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই।’ কিন্তু রেলওয়ের অপারেশন বিভাগ জানায়, কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন ট্রেন চালু করা যেতে পারে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে- এমন কোনো চিঠি পায়নি তারা। তা ছাড়া রেলপথটি এখনও ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত নয়।
যোগাযোগ করা হলে ১১ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী জানান, ট্রেন পরিচালনার জন্য এখনও এ রেলপথ পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। এ কাজ করার দায়িত্ব প্রকল্প কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান বলেন, ‘দুই পক্ষের বক্তব্যই ঠিক আছে। এখানে কিছু সমস্যা আছে। এটা সমাধান করে ঈদুল আজহার পরপরই এ রুটে ট্রেন চালু করা হবে।’
ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রতিদিন ১০ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। যার মধ্যে ৮ জোড়া লোকাল ট্রেন ও দুটি ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট-ডেমু ট্রেন রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের কমলাপুর থেকে পাগলা এলাকা পর্যন্ত পরিদর্শন করে দেখা যায়, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পের কাজ চলছে কয়েকটি অংশে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মিটার গেজ লাইনের পাশে বসানো হয়েছে পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পের নতুন ডুয়েল গেজ লাইন। এ ছাড়া গেণ্ডারিয়া স্টেশনের পুরোনো ভবনটি ভেঙে তৈরি করা হচ্ছে নতুন স্টেশন ভবন।
কয়েক হাজার নিয়মিত যাত্রী ভোগান্তিতে
ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী, অল্প আয়ের মানুষ ও অসুস্থ রোগীরা ট্রেনে ঢাকা যাতায়াত করত। রেলওয়ের কর্মকর্তাদের হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করত এ রেলপথে। প্রায় ১৬ কিলোমিটার এ পথের ভাড়া ছিল মাত্র ১৫ টাকা। যাত্রীরা এখন বাধ্য হয়ে সড়কপথে চলাচল করছে। ভাঙাচোরা সড়কপথে তাদের যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর কুড়িল এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ট্রেন বন্ধ হওয়ায় অসম্ভব ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের। কারণ চাষাঢ়া থেকে সব জায়গার বাস নেই। আমাদের যেতে হয় সাইনবোর্ড এলাকায়। তারপর বাস ধরতে হয়। যেখানে আমরা ট্রেনে ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে কমলাপুর যেতাম, সেখানে বাসে দরকার ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আবার পড়তে হয় যানজটে। তাই সময়ও লাগে বেশি।’
নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেন বন্ধ হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে। আমাদের এলাকা থেকে মাত্র দুটি মিনিবাস ঢাকায় চলাচল করে। ট্রেনের চেয়ে ভাড়া বেশি। আর সারা দিন লাগে ঢাকা যেতে। এক দিকে রাস্তা খারাপ আরেক দিকে যানজট। সারা দিন শেষ শুধু যাতায়াতে।’