প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৩ ০১:৪৭ এএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩ ১১:৪৭ এএম
ফেসবুকের একটি পোস্টে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ এনে রবিবার (৪ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুরে এক যুবককে ধরে স্থানীয়দের মারধর এবং পরে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল, পুলিশের টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই যুবক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ এনে মিরপুর ১৩ নম্বরে পুলিশ স্টাফ কলেজের ৩ নম্বর লাইনের একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে এক যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা। এ সময় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিল। তারা যুবককে বেধড়ক পেটানো শুরু করলে খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। একপর্যায়ে লোকজন পুলিশের ওপর চড়ায় হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। জনতা যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সংঘর্ষে এলাকাবাসীসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। রাতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাতে কাফরুল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম বলেন, ধর্মীয় কটূক্তি করেছে এমন অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মারধর করে জনতা। তাকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এর ফলে আমাদের ওপর হামলা করে স্থানীয়রা। কতজন আহত হয়েছেন তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। যে এ পোস্টটি দিয়েছে, তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আমরা নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি। তবে স্থানীয় কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় আমাদের পুলিশের কিছু সদস্য আহত হয়েছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য আমরা এখানকার (মিরপুর) বিশিষ্টজনদের সহযোগিতা চাচ্ছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ জামাল মোস্তফা বলেন, একশ থেকে দেড়শ লোক হার্ডওয়্যারের দোকানের ছেলেটিকে আটক করে মারধর করছিল। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে দেখি পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এটা একটা পরিকল্পিত ঘটনা বলে আমার ধারণা।
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ওই যুবক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বাসা মিরপুর ১৩ নম্বরের মন্দিরের পাশে। কাফরুলে তার হার্ডওয়্যারের ব্যবসা রয়েছে। কে বা কারা তার ফেসবুক হ্যাক করে একটি পোস্ট দিয়েছে। এর জেরে এলাকাবাসী তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে পুলিশের সহায়তায় রক্ষা পান তিনি।
এদিকে ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল-সমাবেশ করেন। তারা এ ঘটনাকে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থির করার জন্য বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন।