কৃষ্ণাদের লাগেজে চুরি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২২:০৬ পিএম
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৪৭ এএম
সাফজয়ী কৃষ্ণা রানী সরকার। ফাইল ছবি
সাফ শিরোপা জিতে নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দুই খেলোয়াড়ের লাগেজ থেকে ডলারসহ জিনিসপত্র চুরির ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে দেশে। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামলেও কূলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ।
বিমানবন্দরে চুরির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সংস্থা দুটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে ওই দুই ফুটবলারের লাগেজ অক্ষত এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রতিনিধি ও টিম অফিশিয়ালদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেও চুরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তাহলে লাগেজে চুরি হয়েছে কীভাবে এবং কোথায়? এই দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে ফুটবলারদের খোলা বাসে চড়ে মতিঝিলের বাফুফে ভবন যাওয়া পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। এ ছাড়া ওই দুই ফুটলার-কৃষ্ণা রানী সরকার ও শামসুন্নাহারের সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে।
পুলিশের পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগসহ (ডিবি) বিভিন্ন সংস্থা। ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি সত্যি হলে ফুটবলারদের বাফুফে ভবনে পৌঁছানো পর্যন্ত কোনো এক জায়গায় চুরি হয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বিমানবন্দর থেকে লাগেজ গ্রহণের দায়িত্বে থাকা বাফুফের দুই প্রতিনিধিসহ চার কর্মীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের ভেতরে কিছু ঘটেছে কি না তা-ও যাচাই করে দেখা হবে। অবশ্য বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নও (এপিবিএন) দাবি করেছে, বিমানবন্দরে চুরির ঘটনা ঘটেনি। সেক্ষেত্রে নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলেও ধারণা করছেন কেউ কেউ।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি হাইয়াতুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার মতিঝিল থানায় জিডির পর গতকাল শুক্রবার পুলিশের একটি দল বাফুফে ভবন পরিদর্শন করেছে। তদন্তের স্বার্থে বাফুফে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য প্রয়োজন। গতকাল ছুটির দিন থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তবে বাফুফের কর্মকর্তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ওই দুই নারী ফুটবলারের সঙ্গেও কথা বলতে পারে পুলিশ।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, চুরির ঘটনা উদঘাটনে তারা গোড়া থেকে তদন্ত করবেন। প্রয়োজনে বিমানবন্দরের ফুটেজ আবার পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এদিকে পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি মোর্শেদ আলম জানান, এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় বাফুফের পক্ষ থেকে জিডি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তাই পুলিশের উত্তরা বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করতে পারছে না। জিডি হলে বিমানবন্দরের ভেতরে গিয়ে তদন্ত করা যেত। আপাতত ছায়া-তদন্ত চলছে।
তদন্ত প্রসঙ্গে র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চুরির খবর পাওয়ার পর আমরা বিমানবন্দরের ভেতর ও বাইরের বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। কিন্তু চুরির বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারিনি। তদন্ত এখনও চলমান। যারাই এ ঘটনায় জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জানতে চাইলে শাহজালাল বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আগেই জানিয়েছে চুরির কোনো প্রমাণ মেলেনি। এরপরও এপিবিএনের পক্ষ থেকে পুনরায় ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শাহজালাল বিমানবন্দরে কিছু হয়নি।
গত বুধবার নেপাল থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন সাফ চ্যাম্পিয়নজয়ী নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফরা। শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর ছাদখোলা বাসে রাজসিক সংবর্ধনা দিয়ে তাদের বাফুফে ভবনে নেওয়া হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে ফুটবলার কৃষ্ণা ও শামসুন্নাহার টের পান তাদের লাগেজ থেকে ডলারসহ বেশ কিছু জিনিস খোয়া গেছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাগেজ থেকে কৃষ্ণা ও শামসুন্নাহারের ১ হাজার ৭০০ ডলার খোয়া গেছে। মার্জিয়া নামে আরেক খেলোয়ারের লাগেজ থেকে চুরি হয়েছে নেপালি রুপি ও সাবান। কোচিং স্টাফদের একজনেরও কিছু জিনিস খোয়া গেছে। চুরি যাওয়া ডলার ও রুপির সমপরিমাণ টাকা খেলোয়াড়দের ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে বাফুফে।
/এসআর