বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৩ ১৩:২১ পিএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৩ ১৪:২৬ পিএম
রাজধানীর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ডিআইটি প্লট পুকুর রক্ষার দাবিতে আয়োজিত পুকুর ঘেরাও কর্মসূচি ও মানববন্ধন পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। কর্মসূচি পালন না করে ফিরে গেছেন এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।
শুক্রবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এ সময় স্থানীয় ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহানা আক্তারের লোকজন পাশে অবস্থান করে মানববন্ধনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশের বাধায় আয়োজকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ফিরে যান।
শ্যামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর মধ্যে কোনো কর্মসূচি করতে হলে ডিএমপি কমিশনারের অনুমতি নিতে হয়। তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। তাই যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিতে বলা হয়। পরে তারা তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করলে পুলিশ তাতে সহযোগিতা করবে।’
পরিবেশবাদী সংগঠন নোঙর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন শামস বলেন, কোনোভাবেই এ জায়গা ভরাট করতে দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি যেভাবে আগুন লাগছে তাতে পুকুরটি থাকলে অগ্নিনির্বাপণ করা সম্ভব। পুকুর রক্ষার জন্য যতক্ষণ পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে আমরা পুকুরের সঙ্গে থাকব, মানুষের সঙ্গে থাকব, এখানে কোনো আপস নেই।
তিনি বলেন, ‘এখানে স্থানীয় কাউন্সিলর বা প্রশাসন যারা আছেন তারা হয়তো পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। এটা অবশ্যই যৌক্তিক নয়। কারণ পরিবেশের পক্ষে যারা কাজ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব হলো পুলিশ প্রশাসনের।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় নেতা ইবনুল সাঈদ রানা বলেন, ‘বর্তমানে শহর-নগরে এ উত্তাপের পেছনে কারণ হলো ধমনিসদৃশ যে জলাধারগুলো আছে সেগুলো একে একে ধ্বংস করে ফেলছি। আমাদের জলাধার রক্ষার যে আইন রয়েছে আশা করি সবাই তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা রয়েছে যে, কোনো জলাধার বা পুকুর ভরাট করা যাবে না। প্রশ্ন জাগছেÑ প্রধানমন্ত্রীর এ অনুশাসনকে কারা চ্যালেঞ্জ করছে, তারা এ শক্তি কোথায় পায় তা খুঁজে বের করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী দেশের সব পৌর ও মহানগর এলাকার কোনো প্রাকৃতিক জলাধার ও মাঠের শ্রেণি পরিবর্তন, হস্তান্তর বা ভাড়ায় ব্যবহার দণ্ডণীয় অপরাধ। সেখানে এভাবে দখল করে নেওয়া হচ্ছে! আইন অনুযায়ী এটা দণ্ডনীয় অপরাধ।’
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আইন অমান্য করে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ডিআইটি প্লটটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে পুকুরটির মালিক হিসেবে দাবি করা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ময়লা-আবর্জনা ও বালু ফেলে প্রায় ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। পুকুর ভরাট করে চারপাশে ছোট ছোট মার্কেট, দোকান ও রিকশার গ্যারেজও গড়ে তোলা হয়েছে। পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে স্থানীয় ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহানা আক্তার গড়ে তুলেছেন তার কার্যালয়।
পুকুরটি রক্ষায় এলাকাবাসী সিটি করপোরেশন ও রাউজকে বিভিন্ন সময় চিঠি দিয়েছে। এতে পুকুরটি সংরক্ষণ করে সুপেয় পানি ও অগ্নিকাণ্ডে পানি সরবরাহ এবং অবৈধ অংশ উদ্ধার করে চারদিকে দেয়াল দিয়ে পুকুর রক্ষার দাবি জানানো হয়। তবে এসব চিঠি কিংবা দাবিদাওয়ায় টনক নড়েনি সংশ্লিষ্টদের।