× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

নির্মাণাধীন এলাকা অনিরাপদ, রড পড়ে নিহত শিশু

রাশেদুল হাসান

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১০:৫৬ এএম

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩ ১১:২৭ এএম

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণাধীন এলাকা। ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণাধীন এলাকা। ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ

রাজধানীর বিমানবন্দর-কুতুবখালী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণাধীন এলাকা পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। ব্যস্ত রাস্তা ও ফুটপাথের ওপর দিয়ে উড়াল সড়কের নির্মাণকাজ চললেও তৈরি করা হয়নি নিরাপত্তাবেষ্টনী। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। নির্মাণশ্রমিক ও সড়ক ব্যবহারকারী সবাই রয়েছেন চরম ঝুঁকিতে।

এ নিয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতাল-থাই, শ্যাংডং ইন্টারন্যাশনাল ও সিনো-হাইড্রো নির্মাণকাজে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখেনি। দায়িত্বশীল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাট ম্যাকডোনাল্ড কোম্পানি লিমিটেডও এ বিষয়ে তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি করেনি। 

গতকাল রাজধানীর মহাখালী রেলগেট এলাকায় নির্মাণাধীন উড়াল-সড়ক থেকে এক কিশোরের মাথায় রড পড়ায় সে মারা গেছে। এ ছাড়া গত বছর রাজধানীর কাওলা এলাকায় এ উড়াল-সড়কের কাজ করার সময় পড়ে গিয়ে একজন শ্রমিক নিহত হন। 

জানা গেছে, সোমবার সকালে পথচারীরা ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির বিপরীতে ওই কিশোরকে রেললাইনে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। 

ওই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এক পথচারী মো. ইমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রায় আট ফুট লম্বা একটি রড কিশোরের মাথায় ঢুকে থুতনি দিয়ে বের হয়ে গেছে। আর তার ওপরে উড়াল-সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। উড়াল-সড়ক থেকে রড নিচে পড়ে এই ঘটনা ঘটেছে, তা পরিস্থিতি দেখে বোঝা গেল। নিহত কিশোরের নাম-পরিচয় গত রাতেও পাওয়া যায়নি।

ইমন বলেন, ওই সময় কিশোরটি জীবিত ছিল। পরে তারা পাঁচজন মিলে তাকে আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রেলপথের যেখানে শিশুটি পড়েছিল তার ওপরে উড়াল-সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। একই জায়গায় আরও একটি রড পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ রেলপথ দিয়ে পথচারী এবং প্রতিদিন শতাধিক ট্রেন চলাচল করে।

পুরো উড়াল-সড়ক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে মগবাজার পর্যন্ত এলাকার উড়াল-সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। বেশিরভাগ অংশ রেললাইনের ওপর দিয়ে গেছে এবং কুড়িল, বনানী, মহাখালী, কারওয়ান বাজারসহ কিছু এলাকায় এ উড়াল-সড়কের কাজ রাস্তা ও ফুটপাথের ওপর দিয়ে গেছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় নামানো হচ্ছে র‌্যাম্প। কিন্তু ভারী ভারী যান-যন্ত্রপাতি চালিয়ে এ কাজ করা হলেও কোথাও নিরাপত্তাবেষ্টনী, প্রবেশাধিকার বন্ধ করা, নিরাপত্তা সংকেত ও কর্মী রাখার মতো ব্যবস্থা কোথাও দৃশ্যমান নেই। 

গত বছরের আগস্টে খোদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ব্যস্ত সড়কের ওপর কোনো ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখে ক্রেন দিয়ে ভারী মালপত্র পরিবহন করতে এবং ক্রেন দিয়ে মালপত্র ওঠানোর সময় নিচ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলতে তারা দেখেছেন। এতে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন। একইভাবে কাজ চললেও এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক, সেতু কর্তৃপক্ষ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দায়ীদের শাস্তির আওতায় না আনা ও দেখভালকারী কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকার কারণে বারবার এ ঘটনা ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একই শহরে উন্নয়ন প্রকল্প যে দুই রকমভাবে ঘটতে পারে মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তার উদাহরণ। মেট্রোরেল নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। আর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অভাব। নির্মাণ ঠিকাদার সাধারণত বেশি লাভের জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু সেতু বিভাগের কর্মকর্তা ও পরামর্শক কী কাজ করছে? এখন যা অব্স্থা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ দেখাশোনা করার জন্য আরেকটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্পটি ২০১১ সালে নেওয়া হয় এবং ২০১৬ সালে এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। মোট ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার প্রকল্প নেওয়া হয় ৩ ভাগে। এর মধ্যে মূল উড়াল-সড়কের দৈর্ঘ্য ১৯.৭৩ কিলোমিটার। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা বদল, অর্থের সংস্থানসহ নানা জটিলতায় চারবার পিছিয়ে দেওয়া হয় নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা। এ সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে প্রকল্প পরিচালক এএইচএম সাখাওয়াত আখতার ও নির্বাহী পরিচালক মনজুর হোসেনকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা