প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৩ ১৮:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৯ মে ২০২৩ ১৮:৫৭ পিএম
রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ফেডারেশনের আয়োজনে চা-শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবা ফটো
‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলনের ১০২ বছর স্মরণে প্রতিবছর ২০ মে ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন চা-শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে সবেতন ছুটি, দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণসহ ৭ দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ডাকযোগে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ফেডারেশনের আয়োজনে চা-শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশি।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক শামীম আরা, সমগীত সাংস্কৃতিক সংগঠনের আহ্বায়ক অমল আকাশ, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা আবু জাফরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দেওয়া স্মারকলিপিতে জানানো হয়, প্রতিবছর চা-শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে চায়ের উৎপাদন বাড়ছে, কিন্তু পাশের সব দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের মজুরি অনেক কম। ফলে চা-শ্রমিক নারীরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন। সন্তানরা বঞ্চিত মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে, আর বৃদ্ধরা দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছেন।
চা-শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এই দাবিগুলো হলো, মজুরি বোর্ড ও মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করে বেতন সমন্বয় করা, শ্রমিকদের ভূমির অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি এবং চা-বাগানের জমি ইকোনমিক জোনসহ অন্য প্রজেক্ট ব্যবহার না করা, পর্যাপ্ত স্কুল ও হাসপাতাল স্থাপন, পেনশনের ব্যবস্থা করা, শ্রম আইনের বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা, চা-বাগানের যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং ২০ মে চা-শ্রমিক অধিকার দিবস ঘোষণা করা।
সমাবেশে চা-শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বকেয়া সম্পূর্ণ পরিশোধ না করা হলে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটলে এর দায় বাগান-মালিকদের বহন করতে হবে।