বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৩ ১৮:১৯ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৩ ১৮:৫৭ পিএম
নুর উদ্দীন আহমেদ ও আবদুল্লাহ আল মুনতাসির। প্রবা ফটো
বাইক কিনতে আসা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ মে) সকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী জুবায়ের আহমেদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযোগকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর আটক দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ওসি জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ারের পাশে ছিনতাইয়ের ওই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতারা হলেন, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নুর উদ্দীন আহমেদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুনতাসির। তারা দুজনই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। নুর উদ্দীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক এবং মুনতাসির শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি। পলাতক অপর আসামির নাম মো. রাজীব।
ভুক্তভোগী জুবায়ের আহমেদ পল্টন সিটি হার্ট মার্কেটের রংধনু ফ্যাশন নামক একটি দোকানে কাজ করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ভুক্তভোগী জুবায়ের তার পরিচিত রিফাত রিমন নামে এক ব্যক্তির সূত্রে একটি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ঢাবির টিএসসিতে যান। কিন্তু মোটরসাইকেল নিয়ে আসতে রিফাতের দেরি হওয়ায় তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্লাস টাওয়ারের পশ্চিম পাশে নুর উদ্দীন আহমেদ এবং আবদুল্লাহ আল মুনতাসিরসহ তাদের আরও এক সহযোগী মিলে তাকে ঘিরে ধারেন এবং তার নিকট যা কিছু আছে বের করে দিতে বলেন। এ সময় ভুক্তভোগী টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা তাকে পিটিয়ে তার মানিব্যাগ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
শাহবাগ থানায় এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ’ছিনতাইয়ে অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে আরও টাকা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। পরে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আসতে বলা হয়। তারা এলে তাদের আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের কোর্টে চালান দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘ছাত্রলীগ স্মার্ট রাজনীতি করে। ছাত্রলীগ কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেবে না এবং অপরাধীকেও না। কেউ অপরাধ করলে প্রশাসন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; আমরাও এটা প্রত্যাশা করি। ছাত্রলীগের আচরণবিধি ভঙ্গ করে অপরাধ করলে আমরাও যে কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’