প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৩ ১১:৫২ এএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৩ ১৬:১১ পিএম
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি। প্রবা ফটো
দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে ই-সিগারেটের মতো মরণনেশায় আসক্ত করতে তামাক কোম্পানি কৌশলে ই-সিগারেটের প্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
তাদের দাবি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সাধারণ সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ই-সিগারেট বাজারজাতকরণ সরকারের সেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
বুধবার (১০ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে আয়োজকরা এসব কথা বলেন।
এসময় বিএনটিটিপি, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন, এইড ফাউন্ডেশন, ইপসা, দিশারী মহিলা কল্যাণ সমিতি, নাটাব, টিসিআরসি, ডাস, আইডিএফ, কেএইচআরডিএস এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কেরানীগঞ্জ হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা শামীমা সুলতানার সভাপতিত্বে ওই অবস্থান কর্মসূচিতে সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্য। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞগণ সরাসরি উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে সৈয়দা শামীমা সুলতানা বলেন, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে তামাক কোম্পানির ব্যবসা অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্থ হয়েছে। এমতাবস্থায় কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ই-সিগারেট/ভেপিং-কে ধূমপান ত্যাগে সিগারেটের বিকল্প এবং কম ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে প্রচারনা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে তামাক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক সেখানে ই-সিগারেটের মতো একটি ক্ষতিকর পণ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে নিতান্তই কোম্পানির কূটকৌশলের অংশ তা একদম স্পষ্ট।
নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, বাংলাদেশে এই ক্ষতিকর ভেপিং/ ই-সিগারেটের ব্যবহার খুবই নগন্য। কিন্তু সিগারেট কোম্পানিগুলো ধূমপান ত্যাগের কথা বলে, কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় এ দ্রব্য সেবনে তরুণদের পাশাপাশি অধূমপায়ীদেরকেও উৎসাহী করছে। এমনকি দেশের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকটি কোম্পানি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ভেপিং এবং ই-সিগারেটে তরুণদের উৎসাহী করতে মেলা আয়োজনের পাশাপাশি চেইন শপ চালু করেছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে বিশ্বের ৪০টিরও অধিক দেশ এই পণ্য নিষিদ্ধ করেছে তাহলে বাংলাদেশে কেন নয়!
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, দেশের নতুন কোনো সিগারেট কোম্পানিকে অনুমোদন না দেওয়া এবং সিগারেট ও তামাক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন রাস্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য।
কর্মসূচি থেকে বক্তারা এই পণ্যের ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেহেতু বর্তমানে খুবই কম উল্লেখ করে এখনই এই ক্ষতিকর পণ্য নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তামাকমুক্ত বাংলপাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তার জোর দাবি জানান।